মিয়ানমারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ, ঘুম নেই সীমান্তের বাসিন্দাদের

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

কক্সবাজার টেকনাফের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলির বিকট শব্দে টেকনাফ সীমান্তের বসতবাড়ি কেঁপে ওঠেছে। এতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্ক হয়ে পড়েছে। ঘুম নেই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

শুক্রবার রাত পৌঁনে ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়ইক্যং সীমান্তে থেমে থেমে গুলির বিকট শোনা যায়।

জানা গেছে, গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের গুলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারে গুলাগুলির বিকট শব্দে শিশু সন্তানরা ঘুমের মধ্যে কেঁপে ওঠছে। মহিলা ও বৃদ্ধরাও আতঙ্ক হয়ে পড়েছে। শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, গত তিনদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে এই সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়ছে। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছেন না ভয়ে। সীমান্তবর্তী মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

গেল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধের বড়ভাই সরওয়ার আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আমার ভাই আলমগীর ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইরছা দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা।

এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির ফায়ারের বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আমার ভাই আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে সঙ্গে থাকা জেলের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে আহত অবস্থায় আলমগীরকে প্রথমে কুতুপালং এমএমএস হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত