জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৬ এএম

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে জলাতঙ্কের টিকাদান কার্যক্রম। গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে ঝুলছে তালা। সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় সাধারণ রোগীদের বাজার থেকে টিকা কেনার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে শহরের ফার্মেসিগুলোতেও মিলছে না কাক্সিক্ষত এই প্রতিষেধক। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত শত শত মানুষ।

গত বুধবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জলাতঙ্ক ইউনিটের বন্ধ দরজায় একটি সাদা কাগজে হাতে লেখা জরুরি বিজ্ঞপ্তি। সেখানে লেখা ‘ইনজেকশন রেবিক্স ও আরআইজি সরকারিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরবরাহ বন্ধ আছে। বিধায় নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করুন। সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখিত।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে জেলায় ৩ হাজার ৪৫০ জন রোগী বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই সময়ে ১৪ হাজার ৩৩৩ ভায়েল এআরবি টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় আরআইজি টিকার সরবরাহ গত কয়েক বছর ধরেই নেই। বর্তমানে সাধারণ টিকাটিও শেষ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।

সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন থেকে আসা ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছোট মেয়েটারে কুত্তায় কামড়াইছে। হাসপাতালে আসলাম টিকার জন্য, কিন্তু ডাক্তাররা কয় টিকা নাই। বাইরে কিনতে গেলাম, কোনো দোকানেই নাই। এখন মেয়েটারে নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।’

মা ফার্মেসির কর্মচারী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারিভাবে এই ইনজেকশন ফ্রি দেওয়া হতো বলে কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এখন হঠাৎ সরকারি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাজারে হাহাকার পড়ে গেছে। আমাদের কাছে অর্ডার থাকলেও আমরা টিকা দিতে পারছি না।’

ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ শামীমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিড়ালে কামড়েছে। রংপুর থেকে ডাবল দামে টিকা আনিয়েছি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এভাবে অন্য জেলা থেকে টিকা আনা সম্ভব না।’

বালিয়াডাঙ্গী থেকে আসা দিনমজুর খলিল মিয়া বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে জানাল রংপুরে গেলে পাওয়া যেতে পারে। ধার-দেনা করে সেখানে গিয়েছিলাম। যাতায়াত আর টিকার খরচ মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেল। সরকারি হাসপাতালে টিকা থাকলে আমাদের মতো গরিবের উপকার হতো।’

জলাতঙ্কের টিকাদান কেন্দ্রের স্টাফ নার্স লুবনা আক্তার জানান, হাসপাতালে টিকা না থাকায় মানুষ ভিড় করছে কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেকেই বিকল্প হিসেবে রংপুর বা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে টিকা নিয়ে আসছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন সিডিসি (অপারেশন প্ল্যান) থেকে আমরা সরাসরি টিকা পেতাম। বর্তমানে সেই সরবরাহ বন্ধ আছে। এখন ঢাকা সিএমডিসির মাধ্যমে কেনাকাটার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ টিকা আসবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত