দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এ বছর হওয়ার কথা। আয়োজক হিসেবে আছে বাংলাদেশের নামও। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও আগ্রহী মর্যাদার আসর আয়োজনে। যদি সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন আয়োজক স্বত্ব বাংলাদেশকে দেয়, তবে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের চাওয়া ঢাকাসহ তিন শহরে সাফের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে যাতে এই আয়োজনকে ঘিরে ফুটবলাঙ্গনে বাড়তি একটা উন্মাদনা তৈরি হয়। রবিবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাফুফে ভবন পরিদর্শন করেন। বৈঠক শেষে নতুন বছরে প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাবিথ আউয়াল অনেক কথাই বলেছেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে গত এক বছরের কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরার কথা জানান তাবিথ। কীভাবে বাফুফে ফুটবল এগিয়ে নিচ্ছে এবং ফুটবল কর্তারা কতটা সময় ব্যয় করছে, সেগুলো নানা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে উপদেষ্টাকে বোঝানো চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকার যাতে আর্থিক সহায়তা প্রথম বছরের মতো দ্বিতীয় বছরেও অব্যাহত রাখেন সে অনুরোধ উপদেষ্টার কাছে করা হয়েছে বাফুফের পক্ষ থেকে। তাবিথ বলেন, ‘আজকে আমরা মূলত আমাদের এক বছরের যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো শেয়ার করেছি। সরকারের সহযোগিতা ছিল, ফিফার সহযোগিতা ছিল, আমাদের স্পন্সরদের সহযোগিতা ছিল, এই সহযোগিতার ইনপুট কী ছিল এবং আউটপুট কী পেয়েছিলাম সেটা আমরা শেয়ার করেছি উপদেষ্টার সঙ্গে। যে সহযোগিতা সরকার করেছে আর্থিকভাবে এবং অবকাঠামোর মাধ্যমে, আমরা চেয়েছিলাম সেটা যেন অব্যাহত থাকে আগামী এক বছরের জন্য কমপক্ষে।’
কক্সবাজারে সেন্টার অব এক্সিলেন্ট স্থাপনে সরকারের দিক থেকে আন্তরিক চেষ্টার কথা জানিয়ে তাবিথ বলেন, ‘কক্সবাজারের যে জমিটা আছে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য, সেটার হস্তান্তরের কাজটা সম্পন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছে। এখানে একটা আইনের ব্যাপার আছে আর সরকারি প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে জমিটা আমাদের বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিটা হলো প্রসেস এবং আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের কাগজ নিয়েই আমরা ফিফাকে বোঝাতে পেরেছি যে, জমিটা আমাদের হয়ে গেছে, এখন হয়তো একটু সময় লাগবে আমাদের নামে নামজারি করার জন্য। আমরা আমাদের ফিফা ফরওয়ার্ড প্রোগ্রামের ডলারটা রক্ষা করতে পেরেছি। এখন বাকি আনুষ্ঠানিকতা বিশ্বাস করি আগামী এক মাসে শেষ করতে পারব।’
সাফের আয়োজক হওয়া নিয়ে তাবিথ নিজের ইচ্ছের কথা বলেন, ‘সাফ আয়োজনের ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত। আশার করছি ছেলেদের টুর্নামেন্টটা বাংলাদেশ আয়োজন করবে। আমরা উইন্ডো নিয়েও এখন একটু বিবেচনা করছি। আমরা যদি সাফ আয়োজন করি, তাহলে আমরা পুরো বাংলাদেশে খেলাটা ছড়িয়ে দিতে চাই। কমপক্ষে তিনটা ভেন্যু যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি। ঢাকার বাইরের দুটি ভেন্যু নিয়ে আমরা কাজ করছি। যদি সেটা হয়, আমি মনে করি যে, সাফটা জাঁকজমকপূর্ণ হবে এবং আমরা আয়োজক হিসেবেও নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে পারব। তবে পুরো বিষয়টাই আলোচনার মধ্যে আছে। যখন বিস্তারিত পাব আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব।’
ক্রিকেটারদের ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের বাংলাদেশে এসে খেলা নিয়েও কথা হচ্ছে। তাবিথ মনে করেন, ফুটবলের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো শঙ্কা তৈরি হবে না, ‘ফুটবলে আমরা অন্য কোনো বিবেচনা কখনো রাখি না। নভেম্বর মাসেও আমাদের প্রতিবেশী দেশ খেলে গিয়েছে। গত মার্চে আমরা গিয়েছিলাম খেলার জন্য। আমি বিশ্বাস করি ফুটবল ফুটবলের মতোই চলে।’
