শেখ হাসিনা-জয়সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ‘আহতদের হদিস না পেয়ে’ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পিবিআই। তথ্যগত ভুল থাকার কথা উল্লেখ করে গত ৫ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ আদালতে চূড়ান্তপ্রতিবেদন দাখিল করেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার চূড়ান্তপ্রতিবেদন গ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। গতকাল সোমবার বিষয়টি জানা যায়।

যাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে আহত হন সাহেদ আলীসহ ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজের কয়েক শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানম-ি থানায় এ মামলাটি করেন। থানা পুলিশ মামলার তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্তকালে আহতদের খুঁজে পায়নি এবং যে সব আহতদের কথা বলা হয়েছে, গেজেটে তাদের নাম পায়নি পিবিআই। এ ছাড়াও তদন্ত কর্মকর্তা আশপাশের হাসপাতালেও খবর নেন। তবে মামলায় যেসব আহতের নাম বলা হয়েছে, তারা হাসপাতালে ভর্তি হননি বা চিকিৎসা নেননি। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার, সাম্মি আক্তারের সন্ধান পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো হাসপাতালে বা ক্লিনিকে বা অন্য কোনো স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন কি না তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আহতদের কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী শরীফকে তার ভাই সাহেদ আলীকে হাজির হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নোটিস পাঠানো হলেও তারা তদন্ত কমকর্তার ডাকে সাড়া দেননি। এ মামলায় পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা হলেন, শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান ওরফে কামু, মারুফ হোসেন ও মাসুদ রানা বেপারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত