মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত পরিত্যক্ত নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকা এখন ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের মুখে পড়েছে। একসময় জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থানটি বর্তমানে অবৈধভাবে ফেলা ময়লা-আবর্জনার বিশাল ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ডরিন গ্রুপের নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্টটি বন্ধ হওয়ার পর জায়গাটি এলাকাবাসী ও ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নেয়। ছুটির দিনে ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে বেড়াতে আসতেন। কিন্তু সম্প্রতি রাতের আঁধারে কে বা কারা নদীপথে ও সড়কপথে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ময়লা এনে এখানে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের জীববৈচিত্র্য চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।
অভিযোগ রয়েছে, ময়লা ফেলার স্থানটির কাছেই ধল্লা-ফোর্ড নগর পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও রাতের বেলায় নিয়মিতভাবে এই অবৈধ কাজ চলছে। এ ছাড়া ধল্লা সেতুর পূর্ব পাশে সাভার উপজেলার অংশে নদীর ভেতরেও ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা স্রোতের সঙ্গে ভেসে সিংগাইর এলাকায় এসে জমা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ধল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দিপু গত ১১ জানুয়ারি সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত ময়লা অপসারণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ধল্লা-ফোর্ডনগর সড়কের এক দোকানদার বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কারা ময়লা ফেলে যায়, বোঝা কঠিন। এভাবে চললে পুরো এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
নদীপাড়ে ঘুরতে আসা মারুফ বলেন, ‘আগে এখানে খেলাধুলা করতাম। এখন দুর্গন্ধে দাঁড়ানোই দায়।’
নবদম্পতি ইমন ও শামীমা জানান, এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল অসাধারণ। ময়লা ফেলার কারণে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আর এখানে আসবে না।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ ময়লা ফেলা বন্ধ করে জায়গাটিকে পুনরায় পরিবেশবান্ধব ও বিনোদনের উপযোগী করে তোলা হোক। অন্যথায় ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবেল উদ্দিন বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে কোথা থেকে কারা ময়লা ফেলছে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
