দুই শিশুর বয়স বাড়াল পুলিশ দন্ড দিলেন বিচারক

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

চট্টগ্রামে পুলিশের ‘ইচ্ছাকৃত ভুলে’ গত চারদিন ধরে মাদ্রাসাছাত্র দুই শিশু কারাবন্দি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই দুই শিশুকে আটকের পর পুলিশ নথিতে তাদের বয়স বাড়িয়ে দিয়েছে। পরদিন ১০ জানুয়ারি তাদের  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারের আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাদের ১৫ দিনের কারাদন্ড দেন। বিচারকের সামনে দুই শিশুকে হাজির করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের নন-জিআরও পুলিশের উপপরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি মহানগরী আইনের ৮৮(ক) ধারার অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন হিলভিউ আবাসিক থেকে আটক করা হয় দুই শিশু আরিফুর রহমান ও সাদমান হোসেনকে। জন্মসনদ অনুযায়ী, আরিফুরের বয়স ১৫ বছর দুই মাস ও সাদমানের বয়স ১৭ বছর তিন মাস। এর মধ্যে আরিফুর রহমান বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকার  মোহাম্মাদীয়া হাফেজুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষার্থী, সাদমান  হোসেন ওই মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র।

দুই শিশুকে আদালতে উপস্থাপনের নথি প্রস্তুতকারী বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলামের কাছে বয়স বাড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আটকের পর দুজনই যদি নিজেদের বয়স ১৮ বা ১৯ বছর বলে আমার কী করার আছে।’ জানা গেছে, শিশু দুটির আইনজীবী সৌরভ চৌধুরী বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে দন্ড স্থগিত রেখে তাদের প্রবেশনে থাকার শর্তে মুক্তির আবেদন করলেও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম সেই আবেদনটি নাকচ করে দেন। আইনজীবী সৌরভ চৌধুরী বলেন, শিশু আইনের সুবিধা না পেতে পুলিশ দুই শিশুর বয়স বাড়িয়ে দিয়েছে। মাদ্রাসাছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভবঘুরে সাজিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেছে পুলিশ। প্রমাণপত্র হিসেবে জন্মসনদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি উপস্থাপন করে আপিলের শর্তে গত ১২ জানুয়ারি রবিবার আমরা আদালতে জামিন চেয়েছিলাম। আদালত সেটি না মঞ্জুর করেছে। প্রকৃত বয়স জানানোর পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ যাচাই করতে চায়নি। ফলে তারা শিশু হিসেবে প্রাপ্য আইনি সুরক্ষাবঞ্চিত হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া আহসান হাবীব বলেন, বয়স দ্বারা শিশু নিশ্চিত হলে তাদের শিশু আদালতেই উপস্থাপন করতে হবে। কোনো ক্রমেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার করা যাবে না। শিশু হলে তাদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে, সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে কারাগারে রাখার কোনো অবকাশ  নেই। দুই শিশুর উপস্থিতিতে বিচারক উক্ত সাজা ঘোষণা করে থাকলে পুলিশ ও আদালত উভয়ই শিশু আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিজ সংক্রান্ত আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটকের পর একজনের কাছে ইলেকট্রিক টেজার গান পাওয়া যায়। আটকের পর এ সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুজনের বয়স ১৯ বছর। আইনজীবী সৌরভ চৌধুরী বলেন, দুই শিশুকে গত চারদিন ধরে কারাগারে অন্য দাগি আসামিদের সঙ্গে থাকতে হচ্ছে। এটা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নিয়ম অনুসারে, শিশুদের বিচার হবে শিশু আদালতে। কিন্তু এখানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তারা কারাগারে গেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে দুই শিশুর নথি প্রস্তুতকারী বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের বয়স সংক্রান্ত প্রমাণ দিতে পরিবারের সদস্যদের বলেছিলাম, কিন্তু পরিবার সেদিন  কোনো নথিপত্র দেয়নি। এখানে পুলিশের  কোনো গাফিলতি  নেই। তারা আমাদের যে বয়স বলেছে, আমরা সেটিই লিখেছি। অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফুরের মা ইয়াসমিন আকতার বলেন, ‘আমরা পুলিশকে বলেছি আমার ছেলের বয়স ১৬ বছর, সে এবার দাখিল পরীক্ষার্থী। পুলিশ সেটি আমলে নেয়নি। তারা ১৮ বছর লিখে আদালতে পাঠিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত