ইউরোপের ই-৬৯ হাইওয়ে নরওয়ের উত্তরে অবস্থিত। যা ‘পৃথিবীর শেষ সড়ক’ নামে পরিচিত কারণ এটি ইউরোপীয় সড়ক নেটওয়ার্কের শেষ বিন্দুতে পৌঁছেছে এবং এর পর শুধু সুমেরু মহাসাগর ও বরফের বিস্তৃতি, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের অনুভূতি দেয়।
সড়কটি নরওয়ের ওল্ডারফিউয়ার্ড গ্রামকে উত্তর ইউরোপের নর্ডক্যাপের (উত্তর কেপ) পর্যন্ত বিস্তৃত। ই-৬৯ হাইওয়ের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে অর্থাৎ নিরক্ষরেখার শীর্ষে। এই রাস্তা ধরে আপনি যত আগাবেন ততই মনে হবে এখানেই বুঝি রাস্তার শেষ। তবে একে কেন পৃথিবীর শেষ রাস্তা বলা হয় তার ব্যাখা দিয়েছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি এখানে কীভাবে যাওয়া যায় তারও ব্যাখা দিয়েছেন তারা।
উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থান করায় এখানে শীতকালে রাত শেষ হয় না এবং গ্রীষ্মকালে সূর্য অস্ত যায় না। এখানে প্রায় ছয় মাস সূর্যের আলোই পড়ে না। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। পুরো রাস্তাজুড়ে শীতে তুষারপাত হয়। এমনকি গ্রীষ্মকালেও রাস্তায় তুষার পড়ে।
জনমানবশূন্য ও অন্ধকার পথ ‘ই-৬৯ হাইওয়ে’র শুরুতে লেখা রয়েছে ‘দ্য লাস্ট রোড অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’। রাস্তাটি নরওয়ের ওল্ডারফিউয়ার্ড গ্রামকে উত্তর ইউরোপের নর্ডক্যাপের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ১২৯ কিলোমিটার। পাঁচটি টানেলের মাধ্যমে রাস্তাটি অতিক্রম করতে হয়। টানেলগুলোর সামষ্টিক দৈর্ঘ্য ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম টানেলটি হলো উত্তর কেপ। এটি ৬ দমশিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ।
হাইওয়েটিতে যেতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাছাড়া চাইলেও এখানে যে কেউ একা যেতে পারে না। কারণ এখানে আবহাওয়ার কোনো পূর্বাভাসই কাজ করে না। প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইতে থাকে। তুষারপাতের সঙ্গে মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাতও হয়। তাই এখানে নিয়ম মেনে দলগতভাবে যেতেই অনুমতি দেয় নরওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শীতকালে পুরোপুরি বন্ধ থাকে সড়কটি। গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষেরা দলবেধেঁ বাইক রাইডিং করে এখানে।
১৯৩০ সালে ই-৬৯ হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। আর এর কাজ শুরু হয় ১৯৩৪ সালে। এখনকার হাইওয়ের দৈর্ঘ্য ১২৯ কিলোমিটার। ১৯৯২ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে এটি চলমান রয়েছে।
