ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (এডিসি) ব্যক্তিগত নৈশভোজে অংশ নেওয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী লালমনিরহাটের শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী, যিনি হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা।
অনুষ্ঠান শেষে এডিসি শওকত আলী তার স্কুলজীবনের সহপাঠী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাকিলা খন্দকার মুনার আমন্ত্রণে তার বাবার বাড়িতে নৈশভোজে যান। এ সময় ওই বাড়ির পাশে পুলিশের একটি গাড়ি অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরই সেই গাড়ির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়, এটি আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে ‘গোপন বৈঠক ও নৈশভোজে’ যাওয়া ওসিকে বহনকারী গাড়ি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, যেই বাড়িকে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বলে প্রচার করা হয়েছে, সেটি মূলত শাকিলা খন্দকার মুনার বাবার বাড়ি। শাকিলার চাচা হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি কেএম আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়ি একই এলাকায় হলেও আলাদা স্থানে অবস্থিত।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শাকিলাদের বাড়ির সামনে যে গাড়িটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, সেটি লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমারের ব্যবহৃত গাড়ি। ওই গাড়িতেই এডিসি শওকত আলী ওই দিন যাতায়াত করেন।
হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লা দাবি করেন, তিনি কোনো নৈশভোজে অংশ নেননি। তিনি বলেন, ‘সিনিয়র অফিসারের মৌখিক নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে যাই। এডিসি স্যার বাড়ি থেকে বের হলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চলে আসি, ভেতরে যাইনি। যে ছবি ছড়ানো হয়েছে, সেটিও আমার গাড়ি নয়।’
লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার বলেন, ‘আমার গাড়ি এডিসি স্যারকে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ওসিকে প্রটোকল দেওয়ার কোনো লিখিত বা স্পষ্ট নির্দেশনা আমি দিইনি।’ এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি একেএম মইনুল হক এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘একটি ঘটনা আদ্যোপান্ত না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে নির্দোষ মানুষকে বিপদে ফেলাও অপরাধ।’
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নতুন ওসি যোগদানের পর দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
স্কুল শিক্ষক শাকিলা খন্দকার মুনা বলেন, ‘অনেক দিন পরে বন্ধুর দেখা পেয়ে বন্ধুত্বের স্বার্থে তাকে ও শিক্ষার্থীদের পুরো টিমকে দাওয়াত করি। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিল এডিসির প্রটোকলে তা আমরা জানি না। তা ছাড়া চাচার বাড়ি আলাদা, আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীরও আলাদা। কিছু মানুষ না জেনে ফেসবুকে নতুন ওসিকে নিয়ে ট্রল করে তার ক্ষতির অপচেষ্টা করছে। আমি চাই, সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য দিয়ে বিচার করবে কর্তৃপক্ষ।’
