খরচ কম, সেচের প্রয়োজন নেই এবং স্বল্প সময়ে ভালো লাভ— এমন নানা সুবিধার কারণে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষাবাদ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় বাড়তি লাভের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।
শস্যভান্ডার খ্যাত হিলির বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। সবুজের মাঝে হলুদের মেলায় প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে। মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাঠ থেকে সরিষা কর্তন শুরু করবেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগ পর্যন্ত যে সময়টায় জমি পতিত থাকত, এখন সেই সময়েই সরিষা চাষ করে বাড়তি ফসল পাচ্ছেন তারা। ফলে দুফসলি জমি রূপ নিচ্ছে তিন ফসলি জমিতে।
হিলির বড়ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘আগে আমন ধান কাটার পর জমি পড়ে থাকত। এখন সেই সময়ে সরিষা চাষ করে বাড়তি লাভ করছি। সরিষা চাষে যে সার দেওয়া হয়, তা দিয়েই পরে বোরো ধান আবাদ করা যায়। আলাদা করে সার দিতে হয় না। খরচের তুলনায় দ্বিগুণ আয় পাওয়া যায়। পাশাপাশি পরিবারের তেলের চাহিদা, গরুর খৈল ও জ্বালানির প্রয়োজনও মেটে।’
একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘আগে মানুষ জানত না সরিষা চাষ এত লাভজনক। এখন সেচ লাগে না, খরচও কম। সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে সার ও বীজ পাওয়া যাচ্ছে। বিঘা প্রতি খরচ হয় ২-৩ হাজার টাকা, আর ফলন পাওয়া যায় ৫-৭ মণ। বর্তমান বাজারে বিঘা প্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করা যায়। খুব অল্প সময়ে বাড়তি একটা ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।’
গোহাড়া গ্রামের কৃষক নিমাই চন্দ্র জানান, ‘গত বছর ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে ভালো লাভ পেয়েছিলাম। তাই এবার ৯ বিঘায় চাষ করেছি। সরিষা চাষে তেমন ঝামেলা নেই, সেচ লাগে না। এখন মেশিনে সহজেই মাড়াই করা যায়। মাঠ থেকেই সরিষা মাড়াই করে আনা সম্ভব।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে ৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর। কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৪শ’ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। সরিষা স্বল্প জীবনকালীন, কম খরচে লাভজনক ফসল হওয়ায় এর আবাদ দিন দিন বাড়ছে।’
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী দিনে সরিষা চাষাবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।
