কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আপিল করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ইসি সেই আপিল মঞ্জুর করে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল করে।
অন্যদিকে, হাসনাতের হলফনামায় আয়-ব্যয়ের তথ্য নেই এ অভিযোগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা আপিল নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে হাসনাতের প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। শুনানি শেষে এনসিপির আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানান, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এদিন নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানিকালে আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করলে সেখানে উপস্থিত এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ তার প্রতিবাদ জানান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং সাধারণ নাগরিকদের ব্লাডি সিটিজেন’ বলে অপমান করেছেন। এ ঘটনায় তিনি কমিশনের কাছে রুলিং ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সব ধরনের এলিটিসিজম ৫ আগস্টের পরে ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে পলিটিক্যাল এলিটিসিজমের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইটা ছিল। এই আব্দুল আউয়াল মিন্টুদের মতো যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, বিদেশে থাকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তা করে, বিভিন্ন বিজনেস করে, শেখ রেহানার সঙ্গে যখন বিজনেস করে নিজের বিজনেস টিকিয়ে রাখে, তাদের এলিটিসিজম করতে আসে। আমাদের এ সিভিলিয়ানদের যখন বলবে ব্লাডি সিটিজেন, প্রত্যেকটা নাগরিককে, প্রত্যেকটা ভোটারকে মানহানি করেন। আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যেন তাকে ওয়ার্নিং দেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
এদিন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১১২টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। শুনানিতে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ৪৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ২টি আবেদন। কমিশন ৩৭টি আপিল না-মঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে না-মঞ্জুর হয়েছে ১৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে না-মঞ্জুর হয়েছে ২৪টি আবেদন। শুনানিকালে ৯টি আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং দুজন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। কমিশন ১৯টি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রেখেছে।
আজ রবিবার অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে।
