কমে আসছে সময়, বাড়ছে উৎকণ্ঠা। সিদ্ধান্তহীনতা নাকি অনড় অবস্থান? দিন যত গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে। ফিরে গেছেন আইসিসির প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। গ্রুপ বদলের সম্ভাবনা নিয়ে হয়েছে আলোচনা, ওদিকে বেঁকে বসেছে আইরিশরাও। তাদেরও সাফ কথা, শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে গিয়ে খেলতে তারা রাজি নয়। আবার পাকিস্তানও নাকি হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশের দিকে, ভেন্যু বদলে আইসিসি রাজি না হলে পাকিস্তানও দল পাঠাতে দুবার ভাববে। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাবতীয় উত্তেজনা আর নাটকীয়তা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শুরু হয়ে গেছে!
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে রাজি না হয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে আইসিসিতে। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৩ সপ্তাহ আগেও চিঠি চালাচালি, ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ের ফয়সালা না হওয়াতে আইসিসি তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পাঠিয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে রাজি করাবার চেষ্টা করেছে। তবে এই ক্ষেত্রে সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে বিসিবিও অসহায়। নতুন করে বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সূচি করলে ঘেঁটে যাবে এখনকার সব কিছু, যাতে করে বিমান ভ্রমণ, হোটেল, সম্প্রচার সবকিছুই হয়ে যাবে এলোমেলো। সবচেয়ে কম ‘ক্ষতি’তে বাংলাদেশের দাবি মেনে নেওয়া যায় যদি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদল হয় বাংলাদেশের। তবে এই প্রস্তাবে সায় নেই আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা আশ্বাস পেয়েছেন যে গ্রুপ বদল করা হবে না, ‘আমাদের যৌক্তিকভাবেই আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আমাদের গ্রুপ বদল করা হচ্ছে না। আমরা আমাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কাতেই খেলছি’।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ, এমনটাই খবর দেশটির সংবাদ মাধ্যমের। জিও সুপার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের সাহায্য চেয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিও জানিয়েছে, ‘একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন চেয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। পাকিস্তান আমাদের ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান না হলে তারা নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।’ এর আগে পাকিস্তান বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনেও আগ্রহ দেখিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে নাকভি দেশের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও দৈনিক পত্রিকারও মালিক। এশিয়া কাপের ফাইনালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল শিরোপাজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সেই অপমানের শোধ নিতেই হয়তো আয়োজক ভারতকে বাগে পেয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলছেন নাকভি। কারণ পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলতে না আসা মানেই আইসিসির বিশ্বকাপের আকর্ষণ অর্ধেকে নেমে আসা। ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ না হওয়া মানেই টিআরপি, বিজ্ঞাপনের দর সবকিছুতেই পতন। এই অস্ত্র প্রয়োগ করে হয়তো বাংলাদেশের খেলাগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে আনতে আইসিসিকে বাধ্য করতে পারে পিসিবি, এতে করে উপমহাদেশের ক্রিকেট রাজনীতিতে ভারতকে কোণঠাসা করতে হয়ে যেতে পারে নতুন মেরূকরণ।
