বিপিএলের প্লে-অফ। আবার মুখোমুখি রংপুর ও সিলেট এবং ম্যাচের আগের দিন ঢাকায় এসে পরদিন স্যাম বিলিংসের মাঠে নামা। একদম মিলে যাচ্ছে সব কিছু। ২০২২-২৩ মৌসুমের বিপিএল। রংপুর প্লে-অফে উড়িয়ে আনল ইংলিশ ব্যাটার স্যাম বিলিংসকে। ১২ ফেব্রুয়ারি আইএলটি২০-এর ফাইনালে খেলে পরদিন বিলিংস ঢাকায় নামলেন, পরের দিন রংপুরের জার্সি গায়ে ইনিংসের গোড়ায় নেমে আউট হয়ে গেলেন এক রান করে। সেই স্যাম বিলিংস আবারও বিপিএলে, এবারে বিগ ব্যাশ থেকে। সিলেট টাইটানস নিয়ে এসেছে তাকে। আজ এলিমিনেটর ম্যাচে বিলিংস নামবেন সিলেটের হয়ে, সেই রংপুরেরই বিপক্ষে।
রংপুর রাইডার্সের মতো ভুলটাই কি করছে সিলেট টাইটানস? বিপিএলের গত আসরে রংপুরের ভুলটা এখনো আড্ডার বিষয় বাংলাদেশের ক্রিকেট আড্ডায়। প্লে-অফের জন্য আইএলটি২০ থেকে জেমস ভিনস, টিম ডেভিড, আন্দ্রে রাসেলদের রাতারাতি উড়িয়ে এনেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। জেটল্যাগ, ঘুম না হওয়ার ক্লান্তি আর বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ওঠার আগেই ২২ গজে নেমে যেতে হয় তাদের। মোটা অঙ্কে এই ত্রয়ীকে উড়িয়ে এনেছিল রংপুর, আর তিনজন মিলে করেছিলেন ১২ রান। ভিন্স ১, ডেভিড ৭ আর রাসেল ৪। ৮৫ রানে অলআউট হয়ে রংপুরের যাত্রার সমাপ্তি সেখানেই। এবার আর উড়ে এসে কাউকে জুড়ে বসানোর চেষ্টায় নেই রংপুর। বরং গোটা আসর জুড়ে যারা খেলছেন তাদের ওপরই ভরসা রাখছেন মিকি আর্থার-মোহাম্মদ আশরাফুলরা।
আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন তাওহীদ হৃদয়। দাওউদ মালানের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিটা জমে গেছে তার। কাইল মেয়ার্স একটু না হয় পরেই আসছেন। খুশদীল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আকিফ জাভেদদের কেউ একজন হয়তো বাদ যাবেন। নাহিদ রানা আর মোস্তাফিজুর রহমান দুজনেই দলে থাকায় সেটা আকিফ জাভেদ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ব্যাটিংয়ে হৃদয়ের পর লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহানরাও আছেন ভালমন্দের মিশেলে। তবে রান করার গুরুভারটা নিঃসন্দেহে নিতে হবে মালান আর হৃদয়কেই।
ওদিকে সিলেট বিলেতি সংযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড থেকে একের পর এক ক্রিকেটার নিয়ে আসছে! ইথান ব্রুকস, মঈন আলীর পর এসেছেন ক্রিস ওকস, এরপর যোগ দিলেন স্যাম বিলিংস। প্রবাসী অধ্যুষিত বলে সিলেটকে অনেকেই বলেন দ্বিতীয় লন্ডন, সিলেট টাইটানস দলটাও যেন মিনি ইংল্যান্ড দল! ব্রুকস আর মঈন তো আগে থেকেই নিয়মিত ছিলেন একাদশে, বিলিংস ইনিংসের সূচনায় এলে হয়তো তৌফিকের জায়গা হবে না, আর ওকসকে জায়গা দিতে বসতে হবে সালমান ইরশাদকে।
সিলেট-রংপুর এলিমিনেটর ম্যাচ শুরু হবে মঙ্গলবার দুপুর ১টায়। জয়ী দল সুযোগ পাবে প্রথম কোয়ালিফায়ারের বিজিত দলের সঙ্গে লড়ে ফাইনালে যাওয়ার পথ তৈরি করে নেওয়ার। আর হেরে যাওয়া দলের সফর শেষ এখানেই। প্রথাগতভাবে রংপুর রাইডার্সের ম্যাচে গ্যালারি ভরে যায়। তারকাখ্যাতি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব সবকিছুরই যোগফলে। ওদিকে সিলেট টাইটানসের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরি ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধেক মাঠ ভরবে সিলেটের সমর্থনে। প্রয়োজনে ফ্রি বাস সার্ভিসে, লোকাল ফ্লাইটে করে সিলেট থেকে দর্শকদের নিয়ে আসা হবে! এসব আদৌ হবে নাকি স্রেফ ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশে বলা, সেটা বোঝা যাবে ম্যাচের সময়েই। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে, বিপিএলের সময় দেওয়া বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিই পূরণ হয় না!
প্রথম কোয়ালিফায়ারে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আর চট্টগ্রাম রয়্যালস। অ্যাডাম রসিংটনের বিদায়ের পর চট্টগ্রামের আগের সেই তেজ আর নেই। কোয়ালিফায়ারে তারা এসেছে আগের পুঁজি ভাঙিয়ে, অর্থাৎ শুরুতেই কামিয়ে নেওয়া পয়েন্টের জোরে। ঢাকায় এসে চট্টগ্রাম জিতেছে একটা ম্যাচ, হেরেছে টানা দুটি। দিন দুয়েক আগেই তো আজকের প্রতিপক্ষ রাজশাহীর কাছেই তারা হেরেছিল তিন উইকেটে। চট্টগ্রামের ব্যাটিংটা বড্ড কমজোরি হয়ে গেছে। উল্টোদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে সাহেবজাদা ফারহান, জিমি নিশাম, রায়ান বার্লদের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরাও রান করছেন নিয়মিত।
গ্রুপপর্বে রাজশাহী-চট্টগ্রামের মুখোমুখি লড়াইতে দুই দলেরই সমান এক জয়, এক হার। সিলেটে শেষ বলে লেগবাই থেকে ডাবলস নিয়ে শরিফুল ইসলাম এক উইকেটে জিতিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে। আবার ঢাকায় শেষ দেখায় রাজশাহী তিন উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রামকে। মাঠের ২২ গজে যে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজির সুযোগ-সুবিধা কোনো কিছুই ব্যবধান গড়ে দেয় না, দেয় ক্রিকেটারের ভাগ্য, সেটাই যেন এর প্রমাণ। কারণ অনেক আগে থেকেই দল গোছানো রাজশাহী আর শেষ মুহূর্তে মালিকানা বদলে বিসিবির তত্ত্বাবধানে খেলা চট্টগ্রাম, দুটো দলের অবস্থা বিপ্রতীপ হলেও তারাই শীর্ষে। রাজশাহী ও চট্টগ্রামের অবশ্য আজ হারলেই বিদায় নয়, বিজিত দলের সুযোগ থাকবে এলিমিনেটর জিতে আসা দলের বিপক্ষে লড়ে ফাইনালে ওঠার।
