পানিকে অস্ত্রে পরিণত করেছে ভারত : পাকিস্তান

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ এএম

ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পানিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের শামিল বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। ভারতের এই আচরণ ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, গত ২০ জানুয়ারি কানাডা ও জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক রাউন্ড টেবিল বৈঠকে এমন অভিযোগ করেন তিনি। উসমান জাদুন জানান, গত বছরের এপ্রিল থেকে ভারত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি (আইডব্লিউটি) একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তানের মতে সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং একতরফাভাবে এটি স্থগিত বা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত জাদুন আরও জানান, ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি সিন্ধু নদী অববাহিকার ন্যায্য ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার একটি পরীক্ষিত কাঠামো হিসেবে কাজ করে আসছে। এই অববাহিকা বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন সেচ ব্যবস্থাগুলোর একটি টিকিয়ে রেখেছে। এই অববাহিকা পাকিস্তানের কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় পানির ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দেয় এবং ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গত বছর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলার পর উত্তেজনার মধ্যে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান ভারতীয় এয়ারলাইনসের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে পাকিস্তান।

ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার নিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এ চুক্তি হয়। চুক্তিটির মাধ্যমে সিন্ধু ও এর উপনদীগুলোর পানিকে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয় এবং পানিবণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সিন্ধু অববাহিকার পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি নদী ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুর পানি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয় ভারতকে। আর পাকিস্তানকে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদ-নদী সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত