ফেনীর ফুলগাজীতে পরিবেশ আইন অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করায় চারটি ইটভাটা মালিককে মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার আনন্দপুর ও জিএমহাট ইউনিয়নে পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন রাতুল। এ সময় ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সংযুক্তা দাশ গুপ্তা, সিনিয়র কেমিস্ট মো. তানভীর হোসেনসহ র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে চারটি ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে- মেসার্স দেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মালিককে ৭ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫০ হাজার ইট ধ্বংস, হাসানপুর ব্রিকসের মালিককে ৬ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩০ হাজার ইট ধ্বংস, বিসমিল্লাহ ব্রিকসের মালিককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ২০ হাজার ইট ধ্বংস এবং জিএমহাট ব্রিকসের মালিককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩০ হাজার ইট ধ্বংস করা হয়।
ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চ.দা.) সংযুক্তা দাশ গুপ্তা বলেন, পরিবেশ দূষণ, ফসলি জমির ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ১০৩টি ইটভাটার মধ্যে ৪৪ টি বৈধ ও ৫৯টিই অবৈধ। এসব ইটভাটায় যাচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। এতে করে দূষিত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট করছে আশপাশের পরিবেশ।
এদিকে ইটভাটাগুলোতে মানা হচ্ছে না সরকারের কোনো নিয়ম নীতি, প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মাটি, বায়ু, কাঠ এবং ওজন স্তর। অভিযোগ রয়েছে কিছু রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে প্রতিনিয়ত এসব ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর তথ্য মতে, জেলার ১০৩টি ইট ভাটার মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত বৈধ ইটভাটা ১৬টি অবৈধ ১৭টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় বৈধ ৮টি অবৈধ ১০টি, পরশুরাম উপজেলায় বৈধ ২টি অবৈধ ৩টি, সোনাগাজী উপজেলায় বৈধ ২টি অবৈধ ৩টি, দাগনভূঞা উপজেলায় বৈধ ৮টি ও অবৈধ ১৬টি, ফুলগাজি উপজেলায় ৮টি বৈধ ও ১০টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।
