জ্ঞানভিত্তিক কৃষি ও উদ্যোক্তা

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ এএম

বাংলাদেশের কৃষি শুধু চাষাবাদের সীমায় আবদ্ধ নয়, এটি এখন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্যোগের সমন্বিত এক জীবন্ত ক্ষেত্র। একসময় কৃষকরা প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে মাঠে নামতেন। আবহাওয়া, বীজ কিংবা বাজারদরের ধারণা ছিল অনেকটাই অনুমাননির্ভর। কিন্তু এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে কৃষিক্ষেত্রে। আধুনিক কৃষক স্মার্টফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখেন, অনলাইন প্রশিক্ষণ নেন, বাজারদর যাচাই করেন, এমনকি নতুন জাতের বীজ ও চাষপদ্ধতি নিয়ে নিজের জমিতে পরীক্ষা চালান। এই পরিবর্তনের ধারায় গড়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের কৃষি উদ্যোক্তা। যারা কৃষিকে শুধু জীবিকার উৎস হিসেবে নয়, বরং সম্ভাবনাময় ব্যবসা এবং উদ্ভাবনের এক বিস্তৃত ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৩৭ শতাংশ কৃষিনির্ভর। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ কৃষিই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, যা শুধু খাদ্য সরবরাহ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কৃষির অবদান মোট জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিশিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত অবকাঠামো, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষের আয়ের উৎস তৈরি হচ্ছে। এর মানে শুধু মাঠে নয়, পুরো অর্থনৈতিক চক্রে কৃষি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আজকের কৃষি কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়। এটি ক্রমে এক লাভজনক, বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে। সরকারও এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানামুখী নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রকল্প, স্মার্ট কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা তহবিলের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা শুধু উৎপাদন নয়, বাজার সচেতন উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার যুবক-যুবতি কৃষি খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন, যারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন এবং বিপণনে স্বনির্ভর হচ্ছেন।

কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ মানে, কেবল ফসলের উৎপাদন বাড়ানো নয়। এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণন কৌশল, মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি প্রয়োগ, সার এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ও বাজার বিশ্লেষণ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। আধুনিক কৃষক কেবল জমির মালিক নয়। তিনি এক অর্থে উদ্যোক্তা, যিনি সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, হিসাব রাখেন, বাজারের চাহিদা ও প্রবণতা বোঝেন এবং নিজের পণ্যের মান এবং ব্র্যান্ড তৈরিতে সচেষ্ট থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, হাইড্রোপনিক টমেটো বা মাইক্রোগ্রিন উৎপাদনকারী একটি উদ্যোক্তা শুধু উৎপাদন নয়, সরাসরি ই-কমার্স এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্যান্ডিং এবং প্যাকেজিংও করছেন। এই পরিবর্তনকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক কারিগরি জ্ঞান, দক্ষ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত মূলধন এবং দৃঢ় নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। উদাহরণস্বরূপ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার যুবক-যুবতি আধুনিক চাষাবাদ, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জৈব কৃষি, কীটনাশকহীন উৎপাদন এবং ফসল পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তা ছাড়া সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক ও মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা দিয়ে কৃষি উদ্যোক্তাদের মূলধনের অভাব পূরণে সাহায্য করছে। এই চারটি স্তম্ভ যথা কারিগরি জ্ঞান, প্রশিক্ষণ, মূলধন এবং  নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি টেকসই, লাভজনক এবং মানবিক কৃষির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে। সঠিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ বা উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত মূলধন এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে, ব্যবসায়িক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী হতে পারে না। এই সমন্বয়পূর্ণ কাঠামোই বাংলাদেশের কৃষিকে কেবল উৎপাদনশীল ক্ষেত্র নয়, বরং উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলছে।

কৃষিকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রূপ দিতে হলে, উদ্যোক্তাদের জানতে হবে কীভাবে কৃষিকে একটি সংগঠিত ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করা যায়। অনেক তরুণ টেলিভিশন বা ইউটিউবে অন্যের সফলতার গল্প দেখে উৎসাহিত হয়ে কৃষিতে বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপটে দাঁড়ালে বোঝা যায়, কৃষি শুধু আবেগ বা আগ্রহ দিয়ে টিকে থাকার জায়গা নয়। এটি একদিকে শ্রমনিবিড়, অন্যদিকে জ্ঞাননির্ভর। মাটির গুণাগুণ, মৌসুমি পরিবর্তন, ফসলের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং বিপণন কৌশল, এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ছাড়া সাফল্য সম্ভব নয়। একজন প্রকৃত উদ্যোক্তাকে মাটির কাছাকাছি যেতে হবে, হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা নিতে হবে এবং প্রতিটি ধাপের প্রক্রিয়া বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কৃষি ব্যবসায় সফলতার জন্য ধৈর্য ও পরিকল্পনা অপরিহার্য। অনেকে ভাবেন, এক মৌসুমেই মুনাফা আসবে। কিন্তু কৃষির প্রকৃতি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এটি এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা আগামী মৌসুমের জন্য শিক্ষা হয়ে ফিরে আসে। তাই একজন উদ্যোক্তাকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয় স্থিরভাবে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ছোট পরিসর থেকে শুরু করে, সামর্থ্যরে মধ্যে থেকে প্রথম সফলতা অর্জন করতে পারলে, সেই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতেই বড় পরিসরে প্রসার ঘটানো যায়। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে প্রাথমিক ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।  কারণ কৃষি একদিনে নয়, দীর্ঘ সাধনায় সাফল্য বয়ে আনে। প্রশ্ন আসে, একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন? প্রথমত দরকার মৌলিক কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন এনজিও নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তারা আধুনিক চাষাবাদ, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জৈব কৃষি, কীটনাশকমুক্ত উৎপাদন, ড্রিপ সেচব্যবস্থা এবং ফসল পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা কৃষি খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই তরুণরাই ভবিষ্যতের কৃষিকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে। সরকার কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রকল্প’, ‘স্মার্ট কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি’ এবং ‘কৃষি ঋণ সহায়তা তহবিল’ বর্তমানে চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতে বার্ষিক প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনামূলক ঋণ বিতরণ করছে, যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও যুব কৃষকরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা যেমন ব্র্যাক, প্রগতি ও ইনস্পায়ার, কোস্ট ফাউন্ডেশন ইত্যাদি তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণ ও বিপণন সহায়তা প্রদান করছে। এসব উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষিকে আধুনিক পেশা হিসেবে দেখার আগ্রহ বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।

শুধু প্রশিক্ষণ ও মূলধন থাকলেই উদ্যোক্তা সফল হবে এমন নয়। প্রয়োজন সততা, নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। লাভের উদ্দেশ্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই লাভ যেন লোভে পরিণত না হয়। অসৎ উপায়ে দ্রুত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা উদ্যোক্তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে এবং ভোক্তার আস্থা হারিয়ে যায়। একজন প্রকৃত উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সুনাম ও ন্যায্যতার ভাবমূর্তি। সঠিক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে তিনি ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে পারেন, আর সেই আস্থাই তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল ভিত্তি। আজকের বিশ্বে কৃষি কেবল খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; এটি এক উদ্ভাবননির্ভর শিল্প খাতে পরিণত হয়েছে। জৈব কৃষি, হাইড্রোপনিক চাষ, মাইক্রোগ্রিন উৎপাদন, উল্লম্ব কৃষি কিংবা ডিজিটাল ফার্মিং সবক্ষেত্রেই নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণরা এখন শহর ছেড়ে মাটির গন্ধে ফিরছে, আবার কেউ কেউ প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু কৃষিতে নয়, সামগ্রিক সমাজে নতুন চিন্তা ও সম্ভাবনার সূচনা করছে। বাংলাদেশে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয়ই এখন সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং নারী কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে বছরে প্রায় দশ লাখেরও বেশি কৃষক এই অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী। এই উদ্যোগ শুধু নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নয়, পরিবারভিত্তিক কৃষি উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এই ঋণনীতির আওতায় তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র কৃষক এবং নতুন স্টার্টআপ প্রকল্পগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) গ্রামীণ পর্যায়ে প্রায় এক কোটি উপকারভোগীকে ক্ষুদ্রঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংযোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলছে। তাদের কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার ভিত্তি গড়ে তুলছে। বেসরকারি উদ্যোগের দিক থেকেও অগ্রগতি কম নয়। ব্রাক, প্রগতী, গ্রামীণ ট্রাস্ট, ACDI/VOCA  সহ নানা উন্নয়ন সংস্থা কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং ই-কমার্স সংযোগে কাজ করছে। BRAC-এর Agri Value Chain Program গত পাঁচ বছরে প্রায় চার লাখ কৃষককে বাজারমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষিপণ্য বিপণন ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত দিক থেকেও কিছু পদক্ষেপ জরুরি। কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে লক্ষ্যভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মাঠ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে হবে। সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ, ক্রেডিট গ্যারান্টি ও ইনস্যুরেন্স সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা ঝুঁকি ছাড়াই কাজ শুরু করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ইনকিউবেশন সেন্টার ও ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেবে। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন BARC, BARI ও DAE  এবং বেসরকারি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।  যাতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আসলে জ্ঞানভিত্তিক কৃষিই, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কৃষি। কৃষি এখন আর শুধু পরিশ্রমের ক্ষেত্র নয়; এটি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের এক সৃজনশীল পেশা। যারা এই জ্ঞান অর্জন করবে, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সততা নিয়ে মাঠে নামবে, তারাই হবে আগামী দিনের সফল কৃষি উদ্যোক্তা। এই নতুন প্রজন্মই গড়ে তুলবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে কৃষি কেবল জীবিকা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ডিআরপি ফাউন্ডেশন

[email protected]   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত