রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর বাড়তি চাপ তৈরি করেছেন বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ম-লের ভোটে ভাগ বসাতে চাচ্ছেন এই দুই প্রার্থী। এরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। এই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও দলীয় অনেক নেতাকর্মীই তাদের পাশে থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর ওপর তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।
পুঠিয়া-দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নজরুল ইসলাম ম-ল ও জামায়াতের মনজুর রহমান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। সব শেষ ১১টি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একবার, বিএনপি চারবার এবং আওয়ামী লীগ ছয়বার জয় পেয়েছে এই আসনে। এরমধ্যে সবশেষ চারটি বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পান। এই আসনে বিএনপির তিনবারের এমপি নাদিম মোস্তফা গত বছর মারা যান। এবারের নির্বাচনে নজরুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থী বদলের জন্য দুই উপজেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি বিএনপি দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করলেও তারা দমে যাননি।
৩ নভেম্বর মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশ নজরুল ইসলাম ম-লের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশ তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নজরুল ইসলাম ম-লকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসনে বিএনপির আরও চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তারা মাঠ থেকে সরে গেছেন। তবে খায়রুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম মাঠ ছাড়তে নারাজ। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও তারা অনুরোধ রাখেননি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক পেয়েই দুই বিদ্রোহী প্রচারে নেমেন পড়েন। খায়রুল হক লড়ছেন ঘোড়া প্রতীকে আর রেজাউল করিম লড়ছেন ফুটবল নিয়ে। তাদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। বিভক্তির কারণে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরাও তিন ভাগে ভাগ হয়ে প্রচারে নামছেন যা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নজরুল ইসলাম ম-লের দাবি, যারা বিএনপি করেন তারা ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে ভোট দেবেন না। বিভিন্ন কারণে কোনো কোনো নেতাকর্মী কিছুটা দূরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নামবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি পুঠিয়া দুর্গাপুরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ও তাদের নিবিড় আহ্বানে শত প্রতিকূলতার মধ্যে ভোটের মাঠে এসেছি। প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছি। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছি।’
আরেক প্রার্থী খায়রুল হক শিমুলের দাবি, কর্মী-সমর্থকরা তার সঙ্গে আছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
