আওয়ামী লীগের ভোট পেতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দলটির আছে বিপুল সমর্থক। তাদের ভোট পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে বিএনপি ও জামায়াত। এ আসনে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর মধ্যে। কিন্তু জয়-পরাজয়ের মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক।

বিএনপির প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দেশ এ মুহূর্তে দুই ভাগে বিভক্ত। ৭১-এর পক্ষে আর বিপক্ষে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার  আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে এ আহ্বান করছি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে বিএনপির বিকল্প নেই।’

লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ ন ম নোমান বলেন, ‘আমরা ৭১-কে অবশ্যই গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকে সমভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ছাড়া লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের যে ভোটব্যাংক রয়েছে তা জামায়াতের পক্ষে আসার জন্য আমাদের দলীয় কর্মীরা যোগাযোগ করছে। আশা করছি এ ভোটগুলো জামায়াতের পক্ষে থাকবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছলিম উদ্দিন চৌধুরী খোকন বলেন, ‘৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগের নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছে জামায়াত। বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে অবশ্যই মিথ্যা মামলায় নিরপরাধ যারা জেলহাজতে আছেন তাদের সুবিচার পেতে সহযোগিতা করবে।’

লোহাগাড়ার পদুয়ার জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ী ফোরামের সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাংসদ ছিলেন। কিন্তু ওই সময় তিনি এই এলাকার বিরোধী দল তথা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটা মামলাও দেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন সেটাই জামায়াত অনুসরণ করেছে। লোহাগাড়ায় যে মামলাগুলো হয়েছে তার একটারও বাদী জামায়াতের কেউ নয়। আগেও আওয়ামী লীগের সমর্থক অনেকে জামায়াত প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরীকে ভোট দিয়েছেন, আমরা আশা করছি, এবারও তারা জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেবেন।’

২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আ ন ম সামশুল ইসলাম মোট প্রদত্ত ভোটের ৫১ শতাংশ পেয়ে বিজয়ী হন। ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ২১ শতাংশ ভোট পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত