নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, ক্লোজ সার্বিক (সিসি) টিভি ফুটেজ দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় আসামিদের ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপসারণে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ক্র্যাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানান ক্র্যাব সভাপতি।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ল রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডিজাব), রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক), পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে, কারণ পুলিশও ওইসব চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভাগ পায়। তিনি অবলিম্বে আসামি গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা অচল করার হুঁশিয়ারি দেন। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এদের দিয়ে কিছু হবে না। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ বলেন, ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনের গাফিলতি। ঘটনার পরপর অভিযান শুরু করেনি পুলিশ, দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাব সদস্য এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা।
এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ১০ জন ক্র্যাব সদস্য আহত হন, তাদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নরসিংদীর মধাবদী থানায় একটি মামলা হয়েছে।
