বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে স্বতন্ত্রের টক্কর

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে ‘শক্ত’ অবস্থান নিয়েছেন দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে নির্বাচনের মাঠ সরব হয়ে উঠেছে। এ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে টানা জয়লাভ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আলমগীর কবির। এবারও তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আলমগীর কবির মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

গত কয়েক দিন নির্বাচনী এলাকার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মোটরসাইকেল প্রতীকের ব্যানারে ছেয়ে আছে। কিছু এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর হাতপাখা প্রতীকের ব্যানার চোখে পড়লেও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির কোনো ব্যানার চোখে পড়েনি।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে সরব রয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতের প্রার্থীও নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। তবে এবারের নির্বাচনে আঞ্চলিক একটি ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে। আলোচনায় থাকা তিন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলামের বাড়ি আত্রাই উপজেলায়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের বাড়ি রাণীনগর উপজেলা সদর সংলগ্ন চক-উজির গ্রামে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। ভোটের হিসাবে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজের এলাকায় ভোটে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

রাণীনগর উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় কথা হয় খট্টেশ্বর গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তিনটা প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কে নির্বাচিত হবেন তা বলা যাচ্ছে না। তবে রাণীনগরের বেশির ভাগ লোকজনের মুখেই শোনা যাচ্ছে তারা এলাকার প্রার্থীকেই ভোট দিতে চান। এলাকার মানুষ এমপি হলে সুখে-দুঃখে সব-সময় পাশে পাওয়া যাবে। আমাদের এলাকার ভোটারদের মধ্যে আঞ্চলিক টানটাই বেশি দেখা যাচ্ছে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির বলেন, ‘এলাকার মানুষকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি দিতে প্রার্থী হয়েছি। প্রচার-প্রচারণায় মানুষের ভালো সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু প্রচার-প্রচারণায় নেমে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। গু-াবাহিনী দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘কাউকে ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আমি নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছি, তাঁরা যেন সেসব নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। আত্রাই ও রাণীনগর বিএনপির ঘাঁটি। মানুষ ধানের শীষকে ভালোবাসে।’

জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। নারী-পুরুষ দলগতভাবে আমাদের নানামুখী প্রচারণা চলছে। এলাকার মানুষ বলছেন, আমাদের অবস্থান ভালো। সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত