দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে যুবদলের পাঁচ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ছাত্রদলের নয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রবিন আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন— চরকাটারি ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবুল বাসার, কলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম, জিয়নপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতোয়ার হোসেন ও আবদুর রহিম এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মো. হাতেম আলী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে তারা নিয়মিতভাবে দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সেলিম এবং সদস্য সচিব মো. আবদুস সালামের সিদ্ধান্তক্রমে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. শোয়েব হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই অভিযোগে ছাত্রদলের নয় নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, উথলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, আরুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাগর খান, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিক মিয়া, শিবালয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার মিয়া ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল হক, শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি হৃদয় হোসেন, বাচামারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান এবং ঘিওর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন—এ মর্মে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খানের কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীরের পাশাপাশি দল থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী তোজাম্মেল হকসহ মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর আবু বকর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুছাইন, জনতার দলের মোহাম্মদ শাজাহান খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খোরশেদ আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী।
