প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নালিশ এনসিপির

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আয়মান রাহাত সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী হামলা, হুমকি এবং প্রশাসনের অনিয়মজনিত কর্মকা- নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর।

আয়মান রাহাত বলেন, আমরা কিছুদিন আগেও সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতে এসেছিলাম। এখন যেহেতু নির্বাচনের সময় চলছে এবং খুব ক্রিটিক্যাল সময়, দেশের নানা প্রান্তে নানা ঘটনা ঘটছে। আমরা সেসব বিষয় নিয়ে একটা ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে আজকে তাদের সঙ্গে যে ডেভেলপমেন্ট আমরা দেখেছি দেশ জুড়ে সেগুলো শেয়ার করার জন্য এসেছি। তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন বা কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, সেসব বিষয়ে আমরা জানার জন্য আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি হাতিয়াতে নোয়াখালী-৬ আসনে ফেরি উদ্বোধন ঘটনার সময় এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্থানীয় জনতার ওপর বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা চালায়। সেগুলোর ভিডিও ফুটেজ মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই দেখেছেন। সেই ঘটনার পরে মামলা হয়েছে, কিন্তু মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং স্থানীয় জনগণের মোবাইলে আছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও প্রমাণসহ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

আয়মান রাহাত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যারা ওই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের সময়ে হামলা ও ভয়ভীতিতে জড়িত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে নোয়াখালীর এসপিকে আগেই তালিকা দেওয়া হয়েছিল। সারা দেশে নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রমে সেই তালিকা ব্যবহার করা হলেও কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এজন্যই ৩০ জানুয়ারি ঘটনা ঘটেছে। এরপরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়নি। পরদিন তারা আবার হাতিয়াতে একটি মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অনেককে আহত করেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, ওসি এবং ইউএনও সহায়তা করছেন না। হামলাকারীরা ওপেনলি বলছে, ইউএনও এবং ওসি আমাদের পক্ষে আছে, আমাদের কিছুই হবে না। এমন অবস্থায় প্রশাসন যে নিরপেক্ষ নয় এবং নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে তা প্রমাণ হয়েছে। সিইসিকে আমরা প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করার আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে পুলিশ, এনএসআই এবং ডিজিএফআইর জরিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এই তিনটি সংস্থার ভূমিকার ওপরেই নির্বাচনী পরিবেশের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্ভর করছে। আমরা উদ্বিগ্ন, এই সংস্থাগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে কি না।

রাহাত আরও বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। অথচ সরকার গঠনের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মাঠে নেমে তার বক্তব্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যক্তিগত প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন কৃষিঋণ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য। তাহলে আমাদের নির্বাচনী পরিবেশে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে সেটা প্রশ্ন তৈরি করে। ইসিকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই পরিচালককে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, গণভোট কোনো দলের নয়, এটি সরকারের গণভোট। প্রত্যেকে স্বতন্ত্রভাবে ভোট দেবেন। তবে অপপ্রচার চলছে। কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে বিসমিল্লাহ থাকবে না সংবিধানে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখ থাকবে না। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

আয়মান রাহাত বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চলছে। শেরপুরে একজন জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায়। ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হাইকোর্ট থেকে ৪০ জনকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে। ওসিকে এবং ইউএনওকে বদল করা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হামলাকারীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তারা জানে প্রশাসন কিছু করবে না। এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য দল যারা নির্বাচন করছে তারা সুষ্ঠু পরিবেশ পাবেন না। এক নির্দিষ্ট দলই হামলা করছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের ওপরই হামলা হচ্ছে। এই প্যাটার্ন স্পষ্ট। ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলার তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও যখন কেউ গ্রেপ্তার হয় না, তখন আশ্বাসের কোনো মূল্য থাকে না। একটি নির্দিষ্ট পক্ষ যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত