আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরপর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই শেষ সময়ে এসেও চট্টগ্রাম বন্দর টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে চুক্তি সই করতে উদ্যত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে বেশ সমালোচনাও আছে। তবে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, এসব চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়ে আসেন। খলিলুর রহমান মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিরক্ষা ক্রয়সহ বিভিন্ন চুক্তি সইয়ের যৌক্তিকতার বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’
নির্বাচনের পর নতুন সরকার এ চুক্তিগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের করা প্রতিশ্রুতির কী হবে, এমন প্রশ্নে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কছাড়ের আলোচনাসহ কয়েকটি দায়িত্বে নিযুক্ত আছেন ড. খলিলুর রহমান। সম্প্রতি তাকে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদেও যুক্ত করা হয়েছে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না, এমন সমালোচনা আছে জানালে তিনি বলেন, দুনিয়ার সব দেশে ‘বিমান’ নেই।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত নির্বাচন যথাযথভাবে সম্পন্ন করার কাজ ছাড়া এই অন্তর্র্বর্তী সরকার আর কিছু করতে পারবে না।’ গতকাল সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির জন্য সরকারের তৎপরতাকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতির সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরসহ আন্তর্জাতিক চুক্তির তৎপরতা থেকে সরকারকে অবশ্যই সরে আসতে হবে। উপদেষ্টা আর বিশেষ সহকারীদের এসব নিয়ে ছটফট আর বিদেশ সফর বন্ধ করতে হবে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ উপদেষ্টাদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ‘নামের বৈশিষ্ট্যের কারণে’ অন্তর্বর্তী সরকার অস্থায়ী ধরনের সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এ সরকার দায়িত্ব নেয়। প্রধানত রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যাকা-ের বিচার ও জাতীয় নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় নেওয়ার কথা। তবে সরকার এরই মধ্যে চীন, পাকিস্তান, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক থেকে ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন, বিভিন্ন মডেলের যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন ও সামরিক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
