প্রিমিয়ার লিগের ২৪তম রাউন্ডে ডমিনিক সোলাঙ্কের অবিশ্বাস্য এক ‘স্করপিয়ন কিক’ গোলে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই গোলের পিছিয়ে থেকেও ২-২ ড্র করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। রবিবার উত্তর লন্ডনে এই নাটকীয় ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে পেপ গার্দিওলার শিরোপা স্বপ্ন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় ম্যানচেস্টার সিটি। ১১ মিনিটে বার্নার্দো সিলভার বল কেড়ে নেওয়ার পর আর্লিং হালান্ডের পাস থেকে রায়ান চেরকি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দুই টটেনহ্যাম ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ফরাসি মিডফিল্ডার।
এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪৪ মিনিটে রাদু দ্রাগুসিনের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে রদ্রি-বার্নার্দো সিলভার পাসের ধারাবাহিকতায় অঁতোয়ান সেমেনিও ১২ গজ দূর থেকে গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। বোর্নমাউথ থেকে আসার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল।
প্রথমার্ধে প্রাণহীন থাকা টটেনহ্যাম বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায়। ৫৩ মিনিটে জাভি সিমন্সের পাস থেকে বক্সের ভেতরে চাপের মধ্যেই বল নিয়ন্ত্রণ করে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ডমিনিক সোলাঙ্কে। এই গোলের সময় মার্ক গুয়েহির সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে ভিএআরের পরও গোলটি বহাল থাকে। এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। ৭০ মিনিটে কনার গ্যালাঘারের ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে শরীর ঘুরিয়ে অসাধারণ এক ব্যাক-ফ্লিক শটে গোল করেন সোলাঙ্কে। অনেকটা বাতাসে কিউ মারার মতো ভঙ্গিতে নেওয়া এই শট গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়।
সোলাঙ্কের এই অ্যাক্রোবেটিক গোলটির ভঙ্গি অনেককেই মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৭ সালে আর্সেনালের হয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে অলিভিয়ে জিরুর বিখ্যাত অ্যাক্রোবেটিক গোলের কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলটি ইতিমধ্যেই মৌসুমের সেরা গোলের অন্যতম দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
দুই গোলের লিড হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিটি। শেষ দিকে জাভি সিমন্সের শট দোনারুম্মার দুর্দান্ত সেভে আটকে না গেলে ম্যাচ জিতেও যেতে পারত টটেনহ্যাম।
এই ড্রয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি এখন শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল। শনিবার লিডসকে ৪-০ গোলে হারানো আর্সেনালের জন্য এটি ছিল আদর্শ এক সপ্তাহান্ত। রবিবার অ্যাস্টন ভিলা ব্রেন্টফোর্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় শিরোপা লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থান আরও শক্ত করেছে মিকেল আর্তেতার দল। তবে শিরোপা দৌড় ছাড়তে রাজি নন পেপ গার্দিওলা ‘আরও ১৪টি ম্যাচ বাকি। সুযোগ থাকলে আশা থাকবেই। প্রথম গোলটি নিয়ে আমরা হতাশ ওটা যদি কোনো সেন্টার ব্যাক কোনো ফরোয়ার্ডের সঙ্গে করত, তাহলে পেনাল্টি হতো। ওই সিদ্ধান্তের পর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।’
