নির্বাচন কেন্দ্র করে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারই ইসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি সম্মানজনক নির্বাচন নিশ্চিত করতে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইসি সচিব এ কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, ‘বৈঠকে ইইউ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং কমিশনের দিক থেকে কোনো ধরনের আশঙ্কা রয়েছে কি না সে বিষয়ে জানতে চায়। আমরা বলেছি ইতিমধ্যে ১১৬টি আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যালট ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিছু স্থানে আদালতের নির্দেশে প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হওয়ায় সামান্য বিলম্ব হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, তারা (ইইউ) আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জটা কোনটা? তো স্বাভাবিকভাবে যে চ্যালেঞ্জটা আপনাদের সঙ্গে আগাগোড়াই বলে আসছি, সেটাই আমরা আবারও বলেছি, সেটা হচ্ছে অপতথ্য, অর্থাৎ তথ্যের অপপ্রচার। আমরা চেষ্টা করছি যতটুকু সম্ভব রোধ করার। আমরা আশা করি, এটাকে একটা সম্মানজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যাব।’
সচিব বলেন, ‘তারা জানতে চেয়েছিলেন যে আমরা মেটার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছি কি না বা হচ্ছে কি না। তো আমরা বলেছি হ্যাঁ, আমরা মেটার সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং কথা বলছি। আমরা আশা করি, মেটা আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। এখন সহযোগিতার ক্ষেত্রটা কী কী হবে, সেটা নির্ভর করবে আলোচনার ওপর। এখন আমরা তো অনেক কিছুই চাইব। তবে আরেকটা বিষয়, এটাও বলা হয়েছে, যেটি আমরা নিজ উদ্যোগেই বলেছি, আমরা চাই না যে নেটের স্পিড কমানো হোক, বরং বিদ্রƒপাত্মক বা আক্রমণাত্মক কনটেন্টগুলো কিংবা অপপ্রচার যেন ডাউন করা হয়।’
ইসি সচিব আরও বলেন, ‘তারা (ইইউ) সারা দেশ থেকেই তথ্য নিয়েছেন। কিন্তু কী নিয়েছেন আমরা জানতে চাইনি, তারাও কিছু বলেননি। তাদের বোধ হয় এটা নিয়ে ব্রিফিং আছে। পরে আরও রিপোর্ট দেবে। আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম যে আজকে ছয়জন ছিলেন, তাদের ভেতরে কেউ অতীতে বাংলাদেশের কোনো ইলেকশন দেখতে এসেছিলেন কি না। তারা বলেছেন না, কেউ আসেননি।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানাতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন যে আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানটা কী। আমরা সবসময় বলি, সাত দিন সেনাবাহিনী থাকবে, আট দিন আনসার থাকবে এবং পুলিশ অলরেডি আছে। সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে আছে, পুলিশ তাদের নরমাল ফাংশনিংয়ে আছে, সেনাবাহিনী তাদের ডেপ্লয়মেন্টে আছে কিন্তু এক্সক্লুসিভলি ফর ইলেকশন পারপাস এটাই ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান। তার সংখ্যাগত হিসাব জানতে চেয়েছিলেন কত সংখ্যা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর বাইরে কিছু না।’
নারী, সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটাধিকারের বিষয়ে ইইউ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘ইসির প্রত্যাশা তো একই। আমরা কাউকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার পক্ষপাতী নই। আমরা বারবারই বলছি, আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং ভোট দিন। এটা তো প্রত্যেক সময়ই বলছি। এখন ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের প্রত্যাশা, সবারই প্রত্যাশা। আপনাদেরও প্রত্যাশা এটা। তো এখানে নতুন করে প্রত্যাশার কিছু নেই।’
পোস্টাল ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট পৌঁছেছে। দেশে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বাক্সে জমা পড়েছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২টি ব্যালট।
দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট পৌঁছেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ চলবে।
সচিব আরও জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও একই সময়ে দায়িত্বে থাকবেন। ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে অথবা স্পষ্টভাবে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। তবে সব বিষয় আইনগতভাবে সমাধান করা সম্ভব নাও হতে পারে।
নির্বাচনের মাঠে বিএনসিসিকে রাখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। এ বিষয়ে কমিশনের কী সিদ্ধান্ত জানাতে চাইলে সচিব বলেন, বিএনসিসি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবে।
