মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর, হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। জোটের আসন বণ্টন, দলীয় সমঝোতা এবং প্রার্থীদের ব্যাপক গণসংযোগে পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও চায়ের দোকান জুড়ে ভোটারদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। কে জিতবে ধানের শীষ, দেয়াল ঘড়ি, নাকি অন্য কেউ, তা নিয়ে চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ণ শক্তির প্রচারণার কারণে ধানের শীষ প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিনের সমর্থকরা ভালো লড়াইয়ের আশায় মাঠে ক্রমাগত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপির ভেতরের দীর্ঘদিনের কোন্দল অনেকটাই নিরসন হওয়ায় ধানের শীষের প্রচারণা নতুন গতিতে এগোচ্ছে। থানা বিএনপির সভাপতি ও এক সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আবিদুর রহমান খান রোমান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরসেদ আলম ভূঁইয়াও নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামানো হয়েছে। ভোটারদের সামনে কার্যকর বিকল্প কম থাকায় ধানের শীষের প্রতি কেন্দ্রীভূত ভোট প্রবণতা স্পষ্ট।
এদিকে জোটের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি প্রার্থী না থাকায় আসনের সমীকরণ শুরু থেকেই পরিবর্তনশীল ছিল। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জামায়াত আসনটি ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে। ফলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস শেখ সালাহ উদ্দিন। এর আগে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমানের নাম আলোচিত হলেও মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। তারপরও জোটের সিদ্ধান্ত মেনে জামায়াত নেতৃত্ব মাঠে রয়েছে।
গোবিন্দল গ্রামে এক উঠান বৈঠকে জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আগের মতো ভোট হয়ে গেছে এমন নির্বাচন এবার হবে না। জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রকৌশলী এস এম আব্দুল মান্নান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালেও প্রত্যাশিত মাত্রায় ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারছেন না বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিকরা। মাঠপর্যায়ের সংগঠিত উপস্থিতি ও দৃশ্যমান গণসংযোগের ঘাটতি তাকে মূল লড়াই থেকে কিছুটা দূরে রেখেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ইসলামি ভোটব্যাংক একত্রিত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও সামগ্রিক ভোটের হিসাব-নিকাশে তাকে এখনো নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, মঈনুল ইসলাম খান শান্তর পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠিত প্রচারণা তাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে রেখেছে।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের ভোটের চূড়ান্ত রায় মাঠপর্যায়ের শেষ মুহূর্তের হিসাবের ওপর নির্ভর করছে। পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে যে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা বেশি, ভোটের দিন ফলাফলও সেই দিকেই গড়ে উঠতে পারে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত জানান, পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে পথসভা এবং চায়ের দোকানে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় চলছে। সবার কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে তাকে নিয়ে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
