মির্জাপুরে জয়ে দৃঢ় বিএনপি আশাবাদী জামায়াত

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ এএম

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা। মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত এক তরুণ প্রার্থীও। এখানে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে আশাবাদী জায়ামাতে ইসলামীও। স্বল্প কর্মী বাহিনী নিয়ে হলেও ভোটের মাঠে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী।

আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও জেলা জামায়াতের শিক্ষা সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ তালুকদার এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে হাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তোফাজ্জল হোসেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হ্যাঁ/না ভোট নিয়ে এখানকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন ধারণা পরিলক্ষিত হয়নি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটি দীর্ঘসময় ধরেই বিএনপির হাতছাড়া। এখানে এবার জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে দলটি। ভোটের ব্যবধান বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও সুসংগঠিতভাবে ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। ভোটের দিন এখানকার মানুষ ভোটবিপ্লব ঘটাবে বলে আশাবাদী তারা। এ ছাড়া রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পৌরসভা এলাকার ভোটার মুসলেম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। যারা স্বাধীনতার পক্ষে আমি তাদের ভোট দেব।’ শুভ নামের এক তরুণ ভোটার বলেন, ‘গত নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি, এবার যাব। দেশের জন্য মঙ্গলজনক এমন দল, এলাকার জন্য মঙ্গলজনক এমন প্রার্থীকেই ভোট দেব।’

আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘৫ আগস্ট মানুষ যেমন রাস্তায় নেমে এসেছিল সরকার পরিবর্তন করতে তেমনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে।’

মাওলানা আব্দুল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘আমরা ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।’

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন ও তরুণ প্রার্থী। রাজনৈতিক সচেতনতার বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছি। মানুষ আমার কথাকে সমর্থন করছে।’

১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এখানকার ১২৬টি ভোটকেন্দ্র। ইতিমধ্যে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী ও সহকারী রিটানিং অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘এ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো। একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে আমরাও প্রস্তুত। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভোটের আয়োজনটি আমরা সম্পন্ন করতে পারব, নিরাপদভাবে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত