দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ বয়ে আনে নেক সন্তান

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

সন্তান মহান আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। দুনিয়ার জীবনে সন্তান যেমন চোখের শীতলতা এবং বার্ধক্যে ভরসা হয়, সন্তানকে নেক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সে দুনিয়া ও আখেরাতে নেকি অর্জনের কারণ হয়। মৃত্যুর পরও নেক সন্তানের কারণে মানুষের সওয়াব জারি থাকে। হজরত রাসুল (সা.) বলেন, আদম সন্তান যখন মারা যায়, তখন তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়। এক. সদকায়ে জারিয়া (যেমন মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করা ইত্যাদি)। দুই. এমন জ্ঞান, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে। তিন. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম)

রাসুল (সা.) আরও বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে বলবে, আমরা এত মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম? তাকে বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফারের কারণে তুমি এত মর্যাদা পেয়েছ। (সুনানে ইবনে মাজাহ) তাই যখন কারও সন্তানের জন্ম হয়, তার উচিত খুশি হওয়া এবং মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করা। ছেলে মেয়ে যাই হোক, বাবা-মায়ের উচিত তার জন্মে খুশি হওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। অনেক সময় বাবা-মা আশা করে থাকেন ছেলে হবে। তখন মেয়ে হলে হতাশ হন, এটা সমীচীন নয়। মেয়ে হওয়ার কারণে মায়ের নিন্দা করা, তাকে দোষারোপ করা মূর্খতা ও গর্হিত কাজ। এগুলো ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে কাফেরদের বৈশিষ্ট্য ছিল।

কোরআনে মহান আল্লাহ তাদের এই স্বভাবের নিন্দা করে বলেছেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, সেই দুঃখে সে কওম থেকে আত্মগোপন করে। ভাবে আপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ।’ (সুরা নাহল ৫৮-৫৯)

মানুষ জানে না, কোথায় তার জন্য কল্যাণ রয়েছে। হতে পারে সে মেয়ে চাচ্ছে, অথচ ছেলেই তার জন্য বেশি কল্যাণকর। অথবা ছেলে চাচ্ছে, কিন্তু মেয়ে তার জন্য বেশি কল্যাণকর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এমনও হতে পারে, তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, তারই মধ্যেই আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা ১৯)

আল্লাহতায়ালা অনেককে ছেলে ও মেয়ে দান করেন, কাউকে শুধু ছেলেসন্তান দেন, কাউকে শুধু মেয়েসন্তান দেন, আবার অনেককে কোনো সন্তানই দেন না। এটা আল্লাহর ফয়সালা এবং তার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা শুরা ৪৯-৫০) অর্থাৎ বিশ্বজগতের সব কিছু এক আল্লাহর ইচ্ছাতেই পরিচালিত হয়। তিনি যা চান, তাই হয় এবং যা চান না, তা হয় না। অন্য কারও এতে হস্তক্ষেপ করার শক্তি ও ক্ষমতা নেই।

কাউকে শুধু ছেলে ও মেয়ে দেন, আবার কাউকে করেন বন্ধ্যা। তারা না পায় ছেলে সন্তান, আর না পায় মেয়ে সন্তান। মানুষের মধ্যে এই পার্থক্য ও তফাৎ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কোনো নেয়ামত লাভ করার পর আল্লাহর প্রশংসা ও শোকরিয়া আদায় করলে আল্লাহতায়ালা নেয়ামতে বরকত দান করেন। নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আর নেয়ামতকে গুরুত্ব না দিলে, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ শাস্তি হিসেবে নেয়ামত উঠিয়েও নিতে পারেন। শোকরিয়া আদায় করলে নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও অকৃতজ্ঞতার জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি

কৃতজ্ঞতা আদায় করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম ৭)

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত