নির্বাচন কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে ভোলায় ফিরছেন হাজারো ভোটার। দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ, পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রত্যাশা এবং গ্রামে ফেরার টান এসব কারণে ভোলায় মানুষের ঢল নেমেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে দেখা যায়, দিন-রাত একের পর এক লঞ্চ ঘাটে ভিড়ছে। লঞ্চ থেকে দলে দলে মানুষ বিভিন্ন মার্কার স্লোগান দিতে দিতে নামছেন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘গাজী সালাউদ্দিন’ দুপুর ১টায় ভোলায় পৌঁছায়। এর পরপরই ঘাটে ‘দোয়েল পাখি-১ ও ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চ দুটি ভিড়ে। এ দুটি লঞ্চ থেকে বিপুল যাত্রী নামতে দেখা যায়। লঞ্চগুলোতে আসা যাত্রীদের অধিকাংশই ভোটার।
ঘাট জুড়ে ছিল চরম ব্যস্ততা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার-পরিজন নিয়ে ফিরছেন অনেকে। কারও হাতে ব্যাগ, কারও চোখেমুখে দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পারবেন এই প্রত্যাশার আনন্দ।
ঢাকায় বসবাস করা ভোটার মো. রাশেদ খান (৩৮) বলেন, ‘প্রায় এক দশক ভোট দিতে পারিনি। আজ এত মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে ঘাটে নামতে পেরে মনে হচ্ছে, আমরা আবার আমাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছি।’
একই লঞ্চে আসা গৃহিণী শাহানা বেগম (৪৫) বলেন, ‘ভোটের সময়টা আমাদের কাছে ঈদের মতো। এবার তো ঈদের চেয়েও বেশি মানুষ গ্রামে ফিরছে।’ তরুণ ভোটার ইমরান হোসেন (২৭) বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে কষ্ট হলেও ঢাকায় থাকিনি। ভোট দেওয়ার আনন্দটাই আলাদা।’
লঞ্চসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গাজী সালাউদ্দিন ও দোয়েল পাখি-১ ও ১০সহ প্রতিটি লঞ্চেই ভোটারদের চাপ বেশি। নিরাপত্তা ও সময়সূচি ঠিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
ইলিশা লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. মনির বলেন, ‘ঈদের সময়েও এত যাত্রী একসঙ্গে দেখা যায় না। দিন-রাত ইলিশা ঘাটে একের পর এক লঞ্চ আসছে। যাত্রী একেবারেই অকল্পনীয়-অভাবনীয় পরিমাণে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের বাড়তি লোক রাখতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজী সালাউদ্দিন, দোয়েল পাখি-১ ও দোয়েল পাখি-১০ এই তিনটি লঞ্চেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী এসেছে। পুরো চাপটাই ভোটকে কেন্দ্র করে।’
