ঢাকায় ৭৬ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ থানা নিয়ে ১৫টি সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ (১৬১৪টি) ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ডিএমপি। যার মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র ৫১৭টি। সবদিক বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে। ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহানগরী এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ আসন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসনটি। ডিএমপির মিরপুর বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি। ওই বিভাগে ৪৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৩২৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২৮০টি, মতিঝিল বিভাগের ২৮০টির মধ্যে ২২৮টি, তেজাগাঁও বিভাগের ২৮৬টির মধ্যে ১৯৯টি, গুলশান বিভাগের ২৪৯টির মধ্যে ১৭৮টি, লালবাগ বিভাগের ২১৭টির মধ্যে ১৫৫টি, উত্তরা বিভাগের ১৬৫টির মধ্যে ১৩৬টি এবং রমনা বিভাগের ১৬৭টির মধ্যে ১০৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

ডিএমপির সূত্র জানায়, নিরাপত্তা পরিকল্পনা সফল ও কার্যকর করতে ঢাকা মহানগরীকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেছে ডিএমপি। ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ, আটটি গোয়েন্দা বিভাগকে সেক্টরে, একটি সিটিটিসি বিভাগকে, চারটি জোনাল কন্ট্রোল রুম ও আটটি ডিভিশনাল সাব-কন্ট্রোল রুমকে একটি সেক্টর এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও অন্যান্য অফিসকে একটি সেক্টরের আওতায় নিয়ে ১১টি সেক্টরের ভাগ করা হয়েছে। এসব সেক্টরের প্রধান (ইনচার্জ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপপুলিশ কমিশনাররা।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব। ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের জন্য সেনাবাহিনীর পাঁচটি ব্রিগেড কাজ করছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনের জন্য সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড কাজ করছে। এ ছাড়া দুটি ভাগে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সাতটি বেইজ ক্যাম্প থেকে পুরো অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর পাশাপাশি র‌্যাবের একাধিক ইউনিট নিরাপত্তায় কাজ করছে। নির্বাচন ঘিরে একটি ভেন্যুতে ১-৪ কেন্দ্রবিশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে একজন উপপুলিশ পরিদর্শক বা এএসআইসহ তিনজন কনস্টেবল মোতায়েন থাকবেন। সাধারণ কেন্দ্রে একজন এসআই বা এএসআইসহ দুজন মোতায়েন থাকবেন। তাদের একজনের শরীরে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এক ভেন্যুতে পাঁচটি কেন্দ্র হলে সেখানে একজন পরিদর্শক দায়িত্বে থাকবেন। ভোটের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন ডিএমপি কমিশনার থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে ২৬৬ জন নারী কর্মকর্তা ও ফোর্স কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রসহ আনসার ও ভিডিপির একজন সেকশন কমান্ড, সহকারী সেকশন কমান্ড ও একজন প্রিসাইডিং অফিসারের দেহরক্ষী থাকবেন। এ ছাড়া লাঠি-ঢালসহ ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী মোতায়েন থাকবে। ২ হাজার ১৩১ কেন্দ্রে আনসারের ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভিআইপি স্কর্ট, পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার টেন্ডার ও ফোর্স মোতায়েন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যানবাহন সরবরাহ ও মেরামত, জরুরি সেবা, সচিবালয়, প্রসিকিউশন, ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রদর্শন ও বহন নিষেধ আছে। কেউ অস্ত্র প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে। এবার সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রতি ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সব ফোর্স শটগান বহন করবে; মোবাইল প্যাট্রল দলে একটি চায়না রাইফেল, দুটি শটগান, একটি ঢাল থাকবে; স্ট্রাইকিং দলে একটি চায়না রাইফেল, দুটি শটগান, একটি গ্যাসগান, একটি ঢাল-রশি থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) পিস্তলসহ ইনচার্জ পরিদর্শক ও একজন এসআই, ঢাল-লাঠি নিয়ে চার্জিং পার্টিতে ১৫, হ্যান্ডকাফ-রশিসহ অ্যারেস্ট পার্টিতে ৬, গ্যাস পার্টিতে ৬, আর্মস পার্টিতে ৯ জন চারটি চায়না রাইফেল, পাঁচটি শটগান থাকবে। টহলে পুলিশ থাকবে সার্বক্ষণিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত