ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই ধানের শীষ বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিএনপির দুই প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত ও আফরোজা খানম রিতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ফলকে অনেকে বলছেন ‘বাবার আসন’ পুনরুদ্ধারের প্রতীকী বার্তা।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের চূড়ান্ত ফলে ধানের শীষ প্রতীকে মইনুল ইসলাম খান শান্ত পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালাহ উদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট। এ আসনটি (তৎকালীন মানিকগঞ্জ-৪) একসময় প্রতিনিধিত্ব করতেন তার বাবা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন শান্ত। এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে সেই পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য নতুন করে দৃশ্যমান হলো। বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় শান্ত বলেন, ‘মানিকগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই আস্থা রক্ষায় আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ নুর (রিকশা) পেয়েছেন ৬২ হাজার ৯১৬ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৯ ভোট, যা আসনটির ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিতা সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা। ২০০১ সালে তার বাবার বিজয়ের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবার বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন রিতা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিতা বলেন, ‘এই বিজয় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষের। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি নিরলস কাজ করে যাব।’
