নদী থেকে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু, নীরব প্রশাসন 

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় তালমা নদী এখন যেন অবৈধ বালু লুটের খোলা মাঠে পরিণত হয়েছে। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে কোনো প্রকার বৈধ ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু তুলছে একটি চক্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর বুক চিরে প্রতিনিয়ত বালু তোলা হচ্ছে। আশঙ্কাজনকবিষয় হলো, নদীর নিকটে স্থাপিত ছিন্নমূল শিশুদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষা ও আশ্রয়কেন্দ্র আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরী। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীপাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে, যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটি চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উত্তোলিত বালু তালমা-আমকাঁঠাল সড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। সড়কের অধিকাংশ অংশ জুড়ে বালু বোঝাই ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং ভ্যাকু মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে বালু লোড করা হয়। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

একজন পথচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। ট্রাক আর মেশিনের ভিড়ে কখন কী ঘটে বলা যায় না। দুর্ঘটনা হলে দায় নেবে কে?

স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, এই বালু তোলার কাজ নতুন নয়, বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু সব জেনেও প্রশাসন নীরব।

তালমা বালুমহালের ইজারাদার শাহজাহান আলী বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি আগেই প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। গত ১৬ অক্টোবর তিনি এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মহোদয়কে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

শাহজাহান আলী আরও বলেন, ‘আমিও চাই তালমা নদী থেকে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হোক। যারা এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রম ঠেকানো সম্ভব নয়।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তালমা নদী ধ্বংসের পাশাপাশি শিশু নগরীসহ আশপাশের জনপদ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। এরপর আর কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ না পাওয়ায় পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত