বয়কটের পর খেলে পাকিস্তানের হার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

আবহাওয়া বার্তায় ছিল বৃষ্টির বার্তা, তবে ভারত মহাসাগর থেকে উড়ে আসা মেঘমালা বর্ষণ ঘটায়নি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। বরং ঈশান কোণে জমা মেঘ থেকে ইশান কিষানের ব্যাটে উঠেছে ঝড়। শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারতের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ইশান। জবাবে ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই অলআউট পাকিস্তান, বয়কটের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত খেলা ম্যাচে পাকিস্তানের প্রাপ্তি ৬১ রানের হার।

টস জিতলেন সালমান আগা। টসের পর দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। পাকিস্তান আগে বেছে নেয় বোলিং। সালমানের অনুরোধে অভিষেক শর্মাকে খেলানোর কথা জানিয়েছিলেন সূর্যকুমার। সালমান নিজেই প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসে নিয়েছেন অভিষেকের উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা অভিষেককে শূন্য রানেই আউট করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তবে সেই স্বস্তিটা বেশিক্ষণ থাকেনি গ্যালারির সবুজ অংশে। মুখোমুখি হওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম বলেই মিড-উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারা ছক্কায় ইশান বুঝিয়ে দেন, দিনটা তারই। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইশান আর তিলক ভার্মার ৪৬ বলে ৮৭ রানের জুটি। তাতে ইশানের অবদান ৩৮ বলে ৭৮, তিলক ঝড়ের বিপরীতে শান্ত; ৮ বলে ১১। সায়েম আইয়ুবের বলে বোল্ড হয়ে ইশানের বিদায়। এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক সূর্যকুমার, তিলকের সঙ্গে তার জুটিটা ৩৪ বলে ৩৮ রানের। সায়েম এসে পরপর দুই বলে তিলক আর হার্দিক পান্ডিয়াকে আউট করলে জোড়া আঘাতে রানরেট কমে আসে ভারতের। এরপর শিবম দুবে ২৭ আর রিংকু সিং ১১ রান করলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস।

রান তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই স্কোর বোর্ডে কোনো রান জমা করার আগেই আউট সাহিবজাদা ফারহান। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে রিংকুর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। জাসপ্রিত বুমরাহর করা পরের ওভারে প্রথম বলেই ছয় মেরে পরের বলে আউট হয়ে যান সায়েম আইয়ুবও। একই ওভারের শেষ বলে আউট অধিনায়ক সালমান আগা। উসমান খানকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টায় ছিলেন বাবর আজম, যাকে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো নিয়ে ছিল অনেক প্রশ্ন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একটা ভালো ইনিংস হতে পারত সেই প্রশ্নের উত্তর। কিন্তু বাবর আউট হয়ে যান অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে। ৫ বলে ৭ রান, কোনো বাউন্ডারি নেই। বাবর আবারও হতাশ করলেন বড় মঞ্চে। এরপর খেলা যত গড়িয়েছে, বেড়েছে রান তোলার চাপ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পড়েছে উইকেট। কিছুটা প্রতিরোধের স্বপ্ন দেখানো উসমান খানও অক্ষর প্যাটেলের বলে স্টাম্পড হয়ে যান ৩৪ বলে ৪৪ রান করে। এরপর তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়েছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ফাহিম আশরাফকে হুমকি হতে দেননি বরুণ চক্রবর্তী, তাকেও থামিয়েছেন ১০ রানে। পরের বলে লেগবিফোর উইকেট আবরার আহমেদ। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও বরুণের হ্যাটট্রিক হলো না।

৬১ রানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত ভারতের আর পাকিস্তানের রানরেটের গরিবি দশা। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার সঙ্গে তাই জিততেই হবে তাদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত