অনৈক্যে বিএনপির ৩৫ বছরের ঘাঁটি বেহাত!

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-২ আসন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। ফলে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা অনৈক্য ও জয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আসনটি এবার বিএনপির হাতছাড়া হয়েছে। আসনটিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। ফলে হেভিওয়েট এ প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা-২ আসনে (খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড) ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ২০০১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। এরপর খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে তৎকালীন বিসিবির চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলি আসগর লবি জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ফলে টানা ৩৫ বছর আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটি থেকে ফের প্রার্থী হন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। হেলাল এর আগে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।

নির্বাচনে ফলের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে ৫ হাজার ৫৯২ ভোটের ব্যবধানে হেরেছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রাপ্ত ভোট ৮৮ হাজার ১৯৭। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। হেভিওয়েট এ প্রার্থীর পরাজয় নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মঞ্জুর পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলটির নেতা ও সাধারণ ভোটাররা জানান, জয়ের ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালকে নিয়ে নির্ভার ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিএনপি নেতারাও একচেটিয়া বিজয়ের আশায় ছিলেন। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং গোপনে দলের একটি অংশের বিরোধিতায় পরাজিত হয়েছেন মঞ্জু।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, বিএনপির প্রার্থীর পরাজয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতাই দায়ী।

খুলনা নগর বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করলেও নেতৃত্ব ছিল মঞ্জু অনুসারীদের হাতেই। তারা ওয়ার্ডপর্যায়ের বর্তমান নেতাদের (অপর গ্রুপ) মূল্যায়নই করেনি। অবমূল্যায়িত হয়ে তারা মঞ্জুর পক্ষে কাজ করেনি। খুলনা-২ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অনৈক্য এবং পরিকল্পনার অভাব ছিল। অনৈক্যের কারণে আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সঠিকভাবে কাজ করেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত