যুক্তরাষ্ট্র গাজায় শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। সে লক্ষ্যে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শান্তিচুক্তির এই ধাপে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘হামাসের নিরস্ত্রীকরণ’। গাজা উপত্যকা শাসন করা সশস্ত্র এই গোষ্ঠীকে ৬০ দিনের মধ্যে নিরস্ত্র হতে হবে বলে আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসরায়েল সরকারের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, হামাস তা না মানলে ইসরায়েল আবারও ‘যুদ্ধ’ শুরু করবে। ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুকস গত সোমবার জেরুজালেমে এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে হামাস নিরস্ত্র না হলে গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ আবার শুরু করা হবে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফুকস দাবি করেন, এই দুই মাস সময় দেওয়ার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা সেটিকে সম্মান করছি। তবে এই মন্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গত সোমবার হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওয়ি বলেন, এমন কোনো দাবির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যগুলো চলমান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কহীন এগুলো কেবল ভিত্তিহীন হুমকি।
এই আলটিমেটাম ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তা নিশ্চিত না করলেও ফুকস বলেন- এটি ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসের’ বৈঠক থেকে শুরু হতে পারে। এটি ওয়াশিংটনের সমর্থিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা। ফুকস বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মূল্যায়ন করব। যদি কাজ করে, তাহলে ভালো। আর যদি না করে, তাহলে আইডিএফকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) মিশন সম্পন্ন করতে হবে। হামাসের মারদাওয়ি আলজাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার যে কোনো হুমকি পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না। জানুয়ারির মাঝামাঝি তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়।
