হাতিয়ায় 'ধর্ষণের অভিযোগ' ঘটনার ৫ দিন পর আদালতে মামলা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনার পাঁচদিন পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দায়ের হওয়া মামলাটি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন, হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় তারা  বসতঘরে ঢুকে বাদী ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান বাদীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে ঐ নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। পরদিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় তাকে  ‘শাপলা কলি’র সমর্থক আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করে এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগী ওই নারীকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় ঐ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন। বাদীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানা কর্তৃপক্ষকে মামলা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগী নারীর  চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্র অনুযায়ী তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার  পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত