নাইজেরিয়ার একজন গভর্নরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় রীতিমত তোলপাড় চলছে। এতে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই ঘটনা নাইজেরিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরণের ঘটনাকে নেতৃত্বের জন্য লজ্জাজনক আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন অনেকেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা গভর্নর তার কনভয় থামিয়ে রাস্তার পাশে একটি দেওয়ালের দিকে মুখ করে প্রস্রাব করছেন, এ সময় আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। ভিডিও শেষ হওয়ার পর গভর্নর পোশাক ঠিক করেন, একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি নিয়ে হাত ধোন, বোতলটি মুখে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখেন। তারপর নির্বিকারচিত্তে কনভয়ের দিকে ফিরে যান। তার নিরাপত্তাকর্মী ও সঙ্গীরা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ বাধা দেননি।
এ ঘটনা অবগত হয়ে একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও অসম্মানজনক। এতে জনসমক্ষে দায়বদ্ধতা ও শিষ্টাচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে কেউ কেউ পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, তার ব্লাডার হয়তো আর ধরে রাখতে পারছিল না। এমন পরিস্থিতি যে কারোরই হতে পারে। নিরাপত্তা সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা খালি করা হয়েছে, কোটি কোটি টাকার কনভয় আছে, কিন্তু প্রকৃতি বলে দিয়েছে, ‘বস, এখনই বাইরে যাও’। এটা মানুষের স্বাভাবিক ঘটনা।
উল্লেখ্য, এর আগেও দেশটিতে গভর্নরদের সঙ্গে অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাদুনা রাজ্যের সাবেক গভর্নর নাসির এল-রুফাইয়ের বিমানবন্দরে ফিরে আসার সময় সমর্থক ও যাত্রীদের মানবঢাল তৈরি করে ডিএসএস এজেন্টদের তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধা দেওয়ার ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান ঘটনায় গভর্নরের পরিচয় প্রকাশিত না হলেও সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নেতৃত্বের লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন আচরণ কি জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আশা করা যায়?
