এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির নীতিমালা চূড়ান্ত কবে, জানাল মাউশি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পিএম

গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। এই সফটওয়্যারের ডেমো গত সপ্তাহেই চূড়ান্ত কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, বদলি সফটওয়্যারের ডেমো গত সপ্তাহেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে কিছু কারণে সেটি হয়নি। চলতি সপ্তাহে আবারও ডেমো প্রদর্শনী করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে মাউশি।

মাউশির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বদলি সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনীর সভার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সভার তারিখ জানা যেতে পারে। আমরা আশা করছি চলতি সপ্তাহে সফটওয়্যারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২৭ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের বদলির ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় একটি নীতিমালার আওতায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে’ মাধ্যমে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নিম্নোক্ত বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হলো।

এ নীতিমালা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬' নামে অভিহিত হবে। এ নীতিমালা জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে তারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

পরে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের এক পক্ষের রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালা সংশোধনসহ একাধিক কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি। বদলির জন্য সংশোধিত নীতিমালা জারি হলেও সফটওয়্যার তৈরি না হওয়ায় এ কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে বদলি সফটওয়্যারের ডেমো দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় পুনরায় ডেমো দেখানোর সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নীতিমালাটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের জন্য প্রযোজ্য হবে। বদলির সাধারণ শর্তাবলী অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূণ্যপদের চাহিদা/বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে।

এছাড়াও নীতিমালা অনুযায়ী-

প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বদলির আবেদন আহ্বান করবে।

সমপদে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা তার চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোন জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা এ নীতিমালার ৩.৮(গ) ক্রমিকে বর্ণিত ক্ষেত্রে যে কোন জেলায় অথবা স্বামী/স্ত্রীর নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবে।

প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।

বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিন বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে, নিম্নোক্ত অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে: স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে।

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সকল আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত উপজেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে জেলায় সে জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত জেলার কেন্দ্র-এর দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের স্ব-স্ব জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্খিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।

দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-এর অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে।

অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে [নারী ও জ্যেষ্ঠতা] বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

বদলির কর্তৃপক্ষ: মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বদলি কার্যক্রম তদারকি করবে।

আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া: বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সফট্ওয়্যার তৈরি ও অনলাইন আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করবে।

বদলিকৃত শিক্ষকের ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অন-লাইনে ট্রান্সফার হবে। পারস্পারিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি/পদায়ন এর বিষয়টি নিষ্পন্ন করতে পারবেন। বদলিকৃত শিক্ষকের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোন ধরনের টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না।

আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান যোগদানের তথ্য চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ও মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-কে অনলাইনে অবহিত করবেন।

অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত দিবসগুলো কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। কোন শিক্ষকের বিষয়ে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না।

রহিতকরণ: এই নীতিমালা জারি হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ ৩৭.০০.০০০০, ০৭২.২২.০১১.২৩.৩৭৪ নম্বর স্মারকে ‘স্বয়ংক্রিয় সফট্ওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৪’ এতদ্বারা রহিত করা হলো।

মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে এই নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও এ নীতিমালার বিষয়ে ব্যাখা প্রদান করতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত