এনজিওর ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন বৃদ্ধার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

ভিক্ষা আর অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে দিশেহারা সাতক্ষীরার অসহায় এক বিধবা নারী। ‘রুপা এনজিও’ নামের একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে বিধবার সঞ্চয়কৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে টালবাহানার পাশাপাশি  বৃদ্ধাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে  অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধুমাল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত সুলতান মিস্ত্রির স্ত্রী মোছা. ছখিনা খাতুন (৭০) এ ঘটনায় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি মনিরুল ইসলাম (৬০) ও সোমা খাতুন (৪০)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবন চালিয়ে আসছেন ছখিনা খাতুন। বহু কষ্টে তিনি ৬০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। প্রায় আট বছর আগে মনিরুল ইসলাম তাঁকে ‘রুপা’ নামের একটি সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রাখার প্রস্তাব দেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট ওই টাকা জমা দেন তিনি।

ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে গত তিন বছর ধরে শুধু ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এরই মধ্যে তাঁদের এলাকায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং মনিরুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। ছখিনা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সোমা খাতুনের সাতক্ষীরার বাসায় গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। বৃদ্ধ ও অসহায় হওয়ায় বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় দুজনের নামও দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘রুপা এনজিও’ দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমানত সংগ্রহ করে আসছিল। কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর, বিষ্ণুপুর ও নলতা এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কার্যালয় ছিল, যা বর্তমানে তালাবদ্ধ। ভুক্তভোগিদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরে মোটা লাভের প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন জানান, এনজিওকর্মী সোমা খাতুনের কথায় বিশ্বাস করে টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। তহবিল পেলে শিগগিরই পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত