উন্নয়নে আশার আলো

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

চট্টগ্রাম এবার প্রথমবারের মতো অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী পেয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা থেকে রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হওয়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চিটাগং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বিএনপি সরকারের আমলের বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে কক্সবাজারের সালাহউদ্দিন আহমদ। রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব। একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী মীর নাছিরের সন্তান মীর হেলাল। হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত এই তরুণ তুর্কি ইতিমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ইকো ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এবার চট্টগ্রাম থেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন বেশি হবে এটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের।

বিগত সরকারের আমলে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হলেও কালুরঘাট সেতু নির্মাণের গুরুত্ব এতটুকু কমেনি। লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা কর্ণফুলী নদী দিয়ে অনেক পানি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। কিন্তু এই কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বোয়ালখালীর এমপি হিসেবে যিনি নির্বাচিত হন, তিনি সবার আগে বলেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের কথা। বোয়ালখালীর সাবেক এমপি মাঈনুদ্দিন খান বাদল জাতীয় সংসদে এই কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কথা জোর দিয়ে বললেও তিনি জীবদ্দশায় তা দেখে যেতে পারেননি। পরে আরও একজন এমপিও মারা গেলেন। কিন্তু কালুরঘাট সেতুর পিলার বসেনি। এবার চট্টগ্রামবাসী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী পেয়েছে; এবার দেখার পালা সেতুর কাজ শুরু হয় কি না।

শুধু কি কালুরঘাট সেতু? চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি প্রায় দেড় যুগ ধরে ঝুলে আছে। একজন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ছিল না বলে বে-টার্মিনালের গতিও ছিল না। এবার কি আলোর মুখ দেখবে? কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ হলেও তা স্বীকৃতি পায়নি এখনো, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আরও বড় পরিসরে করার কথা, চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে আরও গতিশীল করা গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পার্বত্য জেলাকে পর্যটনের জন্য উপযোগী করা গেলে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন স্পট হতে পারে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এবং টেকনাফের সাবরাং ও সেন্টমার্টিনকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া যায়।

এখন বৃহত্তর চট্টগ্রাম তথা দেশের উন্নয়নে গতি আসবে জানিয়ে চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সি কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে এসেই কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বসেছেন। এতেই বোঝা যায় তিনি চট্টগ্রাম, তথা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য কতটা আন্তরিক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমরা পাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে জানান বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের বিনিয়োগের জন্য পলিসিগত অনেক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে মিরসরাই ইকোনমিক জোন, বে-টার্মিনালসহ কক্সবাজার পর্যন্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে বিশদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে এখন।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী চট্টগ্রামের হওয়ায় এবং ওনার নিজের সংসদীয় আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা আসন) এমপি হওয়ার সুবাদে পলিসিগত কিছু সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। একই সঙ্গে অফডকগুলোতে সব আমদানি পণ্য (বর্তমানে ৬৫ আইটেম অফডক নেওয়া যায়) নেওয়ার অনুমোদন পাওয়া গেলে এই খাত আরও গতি পাবে। অন্যদিকে নগর-পরিকল্পনাবিদ এবং পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে যদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো কিছু পাওয়া যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত