এক বছরে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। হতাশা ও অভিমানÑ এই দুটি কারণই সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করছে।

গতকাল শনিবার সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুলের, যা মোট ঘটনার ৪৭.৪০ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ পর্যায়ে ৯২ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা মোট ঘটনার ২২.৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা মোট আত্মহত্যার ১৯.১০ শতাংশ এবং মাদ্রাসায় ৪৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা মোট ঘটনার ১০.৭২ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং অ্যাকাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ৪১ পুরুষের বিপরীতে ৩৬ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তাই আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত