সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে কুমিল্লার তিনটি আসনের জন্য বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কেউ জেলার নির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ ছুটছেন রাজধানীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। অনেকে আবার আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, পারিবারিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছেন দলের হাইকমান্ডের কাছে।
দলীয় সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। তাদের মধ্যে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, জাকারিয়া তাহের সুমন ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এবার কুমিল্লা থেকে বিএনপির আট নারী নেত্রীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন শামীমা আক্তার রুবী। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। আগে ফ্রান্স মহিলা দলের সহসভাপতি ছিলেন। ছাত্র জীবনে মুরাদনগর বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তার লেখা ‘মুক্তি চাই’ গান বিভিন্ন সমাবেশে আলোচিত হয়। রুবী বলেন, দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের নিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। দল নারীদের পক্ষে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেবে বলে আশা তার।
লাকসাম পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ‘গুম’ হওয়ার পর তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি লাকসাম পৌর বিএনপির সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু, হুমায়ুন কবির পারভেজ ও জসিম উদ্দিনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরে দুজনের খোঁজ মেলেনি। শাহনাজ বলেন, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তিনি গুমবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত আছেন। দলের জন্য তার পরিবারের ত্যাগ বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।
অ্যাডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা কেন্দ্রীয় মহিলা দল ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। তার প্রয়াত স্বামী আলাউদ্দিন আহমেদ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হেনা বলেন, ২০০৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাকিনা বেগমও আলোচনায় আছেন। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। বিষয়টি দল বিবেচনায় নেবে বলে তিনি আশা করেন।
দিলারা শিরিন মেঘনা উপজেলা পরিষদের তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে কুমিল্লা উত্তর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এক সময় অবহেলিত এলাকায় নারীদের সংগঠিত করা কঠিন ছিল; সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। দল তার অবদান মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা করেন।
সামিরা আজিম দোলা কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রয়াত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, পরে কেন্দ্রের নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলের অনেক নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান। যোগ্যরাই মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশা করেন।
