পুনর্বাসনের নামে পরিত্যক্ত ভবনে ‘নির্বাসন’

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

দীর্ঘ তিন দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে গত অক্টোবরে সচল হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এ সংসদ কার্যকর হলেও বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক দশকের পুরনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। রাকসুর অনুপস্থিতিতে এসব সংগঠন রাকসু ভবনে অস্থায়ী কার্যালয় চালিয়ে আসছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রশাসন তাদের স্থানান্তর করে শেখ রাসেল মডেল স্কুলের দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও সংস্কারহীন ভবনে। সংগঠন নেতারা এ উদ্যোগকে ‘ভাগাড়ে নির্বাসন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে প্রশাসনের দাবি, সংগঠনগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য এখনই পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রাকসু ভবনে অন্তত ১৫টি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় ছিল। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি, সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন, উদীচী সাংস্কৃতিক সংসদ, অনুশীলন নাট্যদল প্রভৃতি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির কক্ষগুলো সংকীর্ণ, অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে। অনেক কক্ষের জানালা ভাঙা, টিনের চালা বেহাল, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। মাত্র একটি ছোট ওয়াশরুম রয়েছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ কক্ষে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছায়নি। মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র, নাটকের কস্টিউম, নথিপত্র রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কয়েকটি সংগঠনের সরঞ্জাম ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে।

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আলজাবের আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই দশক ধরে রাকসু ভবনে ছিলাম। এখন সংকীর্ণ জায়গায় কম্পিউটার ডেস্ক বসানোরও ঠাঁই নেই। ভবনের পাশে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যক্রম চলে। নারী সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। প্রশাসন স্থায়ী কার্যালয়ের আশ্বাস দিয়ে উচ্ছেদ করেছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। ’

আবৃত্তিভিত্তিক সংগঠন স্বননের আহ্বায়ক মিজান বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে। পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, নথিপত্র-সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। পরে কোনো যোগাযোগও করেনি তারা।’

তীর্থক নাট্যদলের সভাপতি আনোয়ার আমজাদ স্বজন বলেন, ‘নাটকের মহড়ার জন্য বড় কক্ষ দরকার, কিন্তু এখানে পার্টিশন দিয়ে কক্ষ ছোট করা হয়েছে। বর্ষায় পানি ঢুকবে, কাজ করা যাবে না। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেও বিকল্প জায়গার কথা জানানো হয়নি।’

রাকসুর সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘অভিযোগের পর নতুন জায়গায় গিয়েছি, সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে কিছু করতে পারিনি।’

নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাবিব জাকারিয়া উল্লাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার পর্যাপ্ত পরিবেশ ও জায়গা থাকা মৌলিক চাহিদা। কিন্তু আমরা তা থেকে বঞ্চিত। ছাত্রাবস্থায়ও এমন পরিস্থিতি দেখিনি। জাতির সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজন থাকলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এভাবে চলতে পারে না।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘শেখ রাসেল স্কুল স্থানান্তরিত হওয়ায় ভবনটি ফাঁকা ছিল। এ ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ ছিল না। প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় এনে স্থায়ী পুনর্বাসন করা যাবে। এটি সময়সাপেক্ষ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত