‘মেয়েদের ওপর আস্থা থেকেই আমরা এখানে’

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ এএম

নারী এশিয়ান কাপে আজ অভিষেক হবে বাংলাদেশের। দলকে অনুপ্রেরণা দিতে ব্যক্তিগত খরচে সপরিবারে সিডনিতে হাজির তাবিথ। ৯ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত দলের সঙ্গী হয়ে থাকবেন। বাফুফের নির্বাহী কমিটির আর কেউ এখনো পৌঁছাননি সিডনিতে। আজ ম্যাচের আগে হয়েতো দুএকজন আসবেন। তবে তাবিথ দেরি করেননি। আগেই এসে উপস্থিত হয়েছেন, দেখা করেছেন মেয়েদের সঙ্গে, সাহস জুগিয়েছেন। সোমবার দুপুরে খাবার টেবিলে নির্ভার থেকে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

না, বাস্তবতা বিবর্জিত কোনো প্রত্যাশা করেননি তাবিথ। তবে বিশ্বাসটা রেখেছেন শতভাগ, ‘আগেই আমরা ইতিহাস রচনা করছি। আশা করি আগামীকাল আরেকটা ইতিহাস আমরা সৃষ্টি করতে পারব। তারা প্রথমে র‌্যাংকিংয়ে অনেক উন্নতি করেছে। এখন এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে খেলছে। চীন কেবল এশিয়া নয়, বিশ্ব ফুটবলেও বড় নাম। তবে আমার বিশ্বাস, চীনের সঙ্গে আমরা ভালো খেলব। আর ভালো খেললে ফল যে কারও পক্ষে যেতে পারে।’ চীন, উত্তর কোরিয়ার কাছে বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও হাল ছাড়ছেন না তাবিথ। বরং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মেয়েদের আরও চাঙ্গা করতে বললেন এই কথাটা ‘যদি দলের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস না থাকত তাহলে আমি, যারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে এসেছেন এবং দর্শক যারা খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের কিন্তু খুঁজে পাওয়া যেত না। হারজিত তো থাকবেই আমি চাই যাতে মেয়েরা হৃদয় জিতে নেয় এবং অবশ্যই কোনো খেলোয়াড় যদি বড় কোনো ক্লাবের কন্ট্রাক্ট পায় সেদিকে যাতে আমাদের দৃষ্টি থাকে।’

এশিয়ান কাপের মর্যাদার মঞ্চে খেলা মানে আর পেছন ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। সভাপতি হিসেবে মেয়েদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিতে না পারার দায় নিয়ে তাবিথ এটাও বলেছেন একার পক্ষে সফলতার চূড়া ছোঁয়া সম্ভব নয়, এর জন্য চাই সামগ্রিক পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। মেয়েরা তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখলে একদিন এই আক্ষেপটুকু ঘুচে যাবে বলেই বিশ্বাস তার, ‘মেয়েরা বিশ্বাস করে, ইতিমধ্যে যতটুকু পথ পেরিয়েছি, এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ওরা বিশ্বাস করে ওরা সামনে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এটা ঠিক প্রস্তুতিতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে আমরা খেলিনি। তবে সামর্থ্য যতটুকু ছিল সেটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। দলের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি সবাই ভীষণ ইতিবাচক।’ তাবিথ এও বিশ্বাস করেন গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় সেরা দুই দলের একটি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারে, ‘টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তৃতীয় সেরা দল হিসেবে দুটি দল কোয়ার্টারে যাবে। আমাদের শেষ খেলা না হওয়া পর্যন্ত সবসময় একটা  সুযোগ থাকবে। মেয়েরা ভালো খেললে এবং টেকনিক্যাল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে নিশ্চয়ই প্রশংসা এবং পুরস্কারের ভাগিদার হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত