মন্ত্রী-এমপিদের ফোন করতে পারবেন না ওসিরা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর তালিকা হচ্ছে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের কোনো থানার ওসি সরাসরি মন্ত্রী-এমপিদের বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন করতে পারবেন না, চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। এটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করার বিষয়টি অ্যালাউ করি না। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

একজন ওসি যদি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, সেই ওসির কাছ থেকে জনগণ কী পরিমাণ সহযোগিতা বা প্রত্যাশা করতে পারে? আগের পুলিশকে দেখব না জনবান্ধব পুলিশকে দেখব আমরা? সেটা নিশ্চিত করবেন কি না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন জনগণের সরকার। একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য বিশ্বস্বীকৃত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আগের তার সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। আমি প্রথম দিনেই মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পরে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বলেছি যে- চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে, প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এখন যে প্রশ্ন আপনি তুললেন যে একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করবেন কি না? সেটা আমরা অ্যালাউ করি নাই।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী যদি প্রয়োজন মনে করেন যে কোনো লেভেলে যোগাযোগ করার, সেটা করবেন। কিন্তু চেইন অব কমান্ড ব্রেক করে যেন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা তার ওপরের কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে সরাসরি তার ওপরের কর্মকর্তাকে যোগাযোগ না করেন। স্পষ্ট বলা হয়েছে চেইন অব কমান্ড যেন ব্রেক না করে। সেই সিস্টেমটা আমরা চালু করেছি। ইতিমধ্যে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মেসেজ আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবার কাছে গিয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তবে পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যদি মনে করেন যে কোনো লেভেলে উনি যোগাযোগ করবেন সেটা করতে হবে। কাজের প্রয়োজন। এখানে চেইন অব কমান্ডটা বজায় রাখতে হয় নিচের থেকে ওপরে। কিন্তু ওপর থেকে যে কোনো প্রয়োজনে যে কোনো লেভেলে যোগাযোগটা রাখবে।

এক প্রশ্নের জব্বাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে, সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে। যারা অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেটা নির্মোহভাবে তালিকা করা হচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে শিগগিরই। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে। বর্তমান প্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা উন্নতি করা এবং জনমনে স্বস্তি প্রদান করা, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে বিগত সময়ে একটি ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল সে সময় অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আমরা আজ এই পর্যায়ে এসেছি, যাতে জনমনে এই আস্থা সৃষ্টি করতে পারি পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আবারও উত্তীর্ণ হয়েছি, যাতে মানুষ মনে করে পুলিশ সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু। সেভাবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালনা করব।

ঢাকা ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। কীভাবে যানজট কমানো যায়, সে ব্যাপারে কাজ করা যায়, একটা রিপোর্ট দেবে। ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সীমাহীন হয়ে গেছে। ভিআইপি রোডসহ মেইন মেইন রোড আছে, যেখানে এসব ভেহিকেল চলার কথা না, এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় আজ আমরা বলেছি।

পুলিশের পোশাক পরিবর্তন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,  পোশাক পরিবর্তন করলে কি মানসিকতার পরিবর্তন হবে? এটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলার যাবতীয় সমস্যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যথাযথ নির্দেশনায় শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডিএমপির মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ ডিএমপির সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত