সুদসহ পুরো টাকা ফেরতের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। এ সময় চাহিদামাত্র নিজেদের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন, মুনাফা থেকে ‘হেয়ার কাট’ বাতিলসহ নানা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবি না মানলে ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের কথা জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের সড়ক থেকে সরতে অনুরোধ জানায় পুলিশ। তারা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। এ পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এ ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ব্যাংকের ২০২৪ ও ’২৫ সালের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ করে সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুনাফাসহ পুরো আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর দাবি জানান। গতকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য অন্যায্য। আমানতকারীরা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে যারা টাকা জমা রেখেছিলাম, তারা এখন নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত, অসহায়। আমরা তো সরকার অনুমোদিত ব্যাংকেই টাকা রেখেছি, তখন তো সরকার বলেনি এখানে টাকা রাখা ঝুঁকি হবে। তাহলে আমাদের টাকার দায়িত্ব কেন সরকার নেবে না?’
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধান ফটকে আটকে দেন। আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চান এবং গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা সাময়িকভাবে ফটকের সামনে থেকে সরে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে অবস্থান নেন। পরে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ফটকের সামনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরাও তাদের সামনে অবস্থান নেন। তারা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন।
পুলিশের মতিঝিল থানার পরিদর্শক সালাহউদ্দিন বলেন, বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
