ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুদ্ধের আতঙ্গের মধ্যে দুবাই থেকে সম্পদ সরাতে বিকল্প খুঁজছেন এশিয়ার ধনী ব্যক্তি ও উদ্যোক্তারা। যুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই তাদের সম্পদের বিপরীত বা নিরাপদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরই দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় দুই উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারা স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে কিছু অর্থ সিঙ্গাপুরে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে তাদের একজন অন্য মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করতে সক্ষম হন।
তথ্যমতে. অনেক ধনী এশীয় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। তারা দুবাইয়ে রাখা সম্পদ সিঙ্গাপুর কিংবা হংকং-এর মতো আঞ্চলিক আর্থিক কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে যে সুনাম ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, গত কয়েক বছরে দুবাই উদ্যোক্তা ও ধনী এশীয় পরিবারের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা, করছাড়ের সুবিধা এবং দ্রুত বর্ধনশীল সম্পদবাজার এই তিন কারণে বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগকারীরা এখানে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের মোট সম্পদের পরিমাণ দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শান্তি ও বাণিজ্যের মরূদ্যান হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুদ্ধের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। ফলে উদ্যোক্তারা আইনি পরামর্শের জন্য তাদের আইনজীবীদের কাছে যাচ্ছেন। তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পদ সিঙ্গাপুরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ চাইছে। তবে সব সম্পদ ব্যবস্থাপক পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিক পুঁজি স্থানান্তরের কারণ হিসেবে দেখছেন না। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
দুবাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।