শেরপুর জেলা জামায়াতের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অনেকেই ফেসবুকে সেই নেতার ইফতার পার্টিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আগামীতে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ৭ মার্চ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার আয়োজনে স্থানীয় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার নবারুন পাবলিক স্কুল মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের জমায়েতের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এই ইফতার মাহফিলে এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব দুলাল মিয়া বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি প্রধান অতিথি রাশেদুল ইসলামের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি জামায়াত থেকে এমপি নির্বাচিত হলেও, এখন আপনি কোনও দলের এমপি নন, আপনি শেরপুরবাসীর এমপি। আপনি এমপি নির্বাচিত হয়েছে নিরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে। আগামীতে শেরপুরে সাজাতে যা যা করার তা আপনি করবেন।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের পালাতক নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে নানা ভাবে মন্তব্য করেন।
এই আওয়ামী লীগ নেতার ৩ ছেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি। দুলাল মিয়াও বিগত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে সম্প্রতি এলাকায় এসে তার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
দুলাল মিয়ার জামায়াতের ইফতার মাহফিলে উপস্থিতি নিয়ে সেঁজুতি বিনতে রহমান নামে একজন তার আইডিতে লিখেছেন, আজকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে এই ঐতিহাসিক দিনে আওয়ামী লীগের একজন প্রথম সারির নেতার স্কুলে যিনি কিনা অদূর ভবিষ্যতে জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন, এই দুঃসময়ে যার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের আন্দোলন বেগবান হবে সে রকম একজন আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন স্কুল মাঠে এমন স্বাধীনতাবিরোধী দলের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় যা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির মানুষদের কাছে অন্তত বেদনাদায়ক। কথিত রয়েছে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন তিনি জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা লিখেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জামায়াত ইসলামীর ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি এবং বক্তব্য প্রদানে আজ মনটা ভেঙে গেল, বয়সের ভারে তিনি হয়তো তার শক্ত এবং দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন দলীয় চেতনা হারিয়ে ফেলেছেন। যদিও দখলার ইউনূস সরকার তার পরিবারের ৩ জন সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেক হয়রানি করিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে তিনি হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, পৌরসভায় আমাদের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের পক্ষ থেকে যে ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছিল সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষকেই দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গত থেকে অনেকেই বক্তব্য রেখেছে। কে কোন দল করে সেটা বিবেচ্য নয়। আর আমরাও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য উদ্দেশ্য প্রণীতভাবে কাউকে দাওয়াত দিইনি।
