দেশে দেশে জ্বালানিযুদ্ধ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে এক নতুন সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুদ্ধের ফলে তেলক্ষেত্র, গ্যাস অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যার বড় প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য সংকটসহ নানা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে প্রতিটি দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও সাধারণ মানুষের জীবনে।

জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : বর্তমানে দেশের প্রায় ৬০ থেকে ৬২ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশ জুড়ে। জ্বালানি তেল নিয়ে হৈচৈ আর নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

যদিও সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত। নতুন নতুন বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সংকট নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তেল নিয়ে নানা সংকট শুরু হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কা এরইমধ্যে সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন শুরু করেছে সরকার। রেশনিং করে তেল বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যুতেও কৃচ্ছ্রনীতি অবলম্বন করা হয়েছে। এরইমধ্যে বোরো মৌসুমে সেচব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে এক ধরনের শঙ্কা।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা বিশ্বপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য সরকার সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিকল্প উৎস হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকেই চাহিদার অতিরিক্তি তেল কিনছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তেল বিক্রির পরিমাণ ২-৩ গুণ বেড়ে গেছে। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কেটে যাবে যখন দেখবে তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই,’ যোগ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, ‘বোরো মৌসুমে কৃষককে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই মোতাবেক আমরা কাজ করছি। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’

সরকারের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী যুদ্ধকালীন এই সময়ে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ারও আহ্বান জানান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনার ওপর হামলা হচ্ছে। এইমধ্যে ইরানে তেলের ডিপোতে হামলা হয়েছে, কাতারে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এখন দুই পক্ষই যদি জ্বালানি স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলা চালায় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়া বিশে^র অন্যান্য দেশ তো বটেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় কঠিন হয়ে পড়বে।

তার ভাষায়, ‘যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর এই দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। বিশেষ করে ডিজেল না আনতে পারলে সব শেষ। আবার বিশ^ বাজারে তেল ও এলএনজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। এলপিজি খাতও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই মুহূর্তে আল্লাহ আল্লাহ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

‘তবে জ্বালানি সাশ্রয়নীতি অবলম্বনের পাশাপাশি বিদ্যুতে কিছু লোডশেডিং করা গেলে সংকট কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট : বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা হয় তা বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলেরও প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ১২০ হয়েছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি বিশ্লেষকদের অনেকেই সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হয়, তাহলে তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের জন্ম দিতে পারে।

তারা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি খাতের ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে যায়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ বিশ্ববাজার থেকে এক ধাক্কায় প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল গায়েব হয়ে যাবে। তুলনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের সময় বিশ্ববাজারে দিনে ৪০ থেকে ৫৫ লাখ ব্যারেলের সংকট তৈরি হয়েছিল।

এমনকি ১৯৭৮ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লব বা ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান-ইরাক যুদ্ধের ধাক্কায়ও এই সংকট দৈনিক ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেলে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থাৎ হরমুজের সম্ভাব্য এই সংকট হবে বিগত যেকোনো বড় ধাক্কার চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি শক্তিশালী।

প্রতিদিন দুই কোটি ব্যারেলের এই হিসাব মূলত চরম সংকটের এমন এক চিত্র, যেখানে ধরে নেওয়া হয়েছে, ওই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বাস্তবে কিছু সরবরাহ সচল থাকার সম্ভাবনা আছে।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক উৎপাদকেরা পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কৌশলগত মজুদও এই ধাক্কা সামলাতে ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সংকট কিছুটা প্রতিরোধ করা গেলেও তেলের দাম আকাশচুম্বীই থেকে যাবে।

জ্বালানি সরবরাহের হৃৎপি-ে অস্থিরতা : বিশ্বের বৃহৎ তেল ও গ্যাস ভা-ারের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি উৎপাদকদের মধ্যে রয়েছে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত তেলের বড় অংশ যায় এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা তৈরি করে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে তেল শোধনাগার, গ্যাস স্থাপনা এবং জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলের চেষ্টা করছে, আবার অনেক বীমা কোম্পানি যুদ্ধঝুঁকির কারণে এই রুটে জাহাজ বীমা করতে অনীহা দেখাচ্ছে।

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব দেখা যায় উৎপাদনেও। সংঘাতের কারণে ইরাকের তেল উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাশং কমে যায়, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত।

এলএনজি নিয়েও অস্থিরতা : বিশ্ব জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে। গত এক দশকে পাইপলাইনের গ্যাসের পরিবর্তে সমুদ্রপথে পরিবহনযোগ্য এলএনজি বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতারের কিছু গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এশিয়ার দেশগুলোয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৬০ শতাংশ এশিয়ার বাজারে যায়। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আসে।

ভারত তার মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশটির জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়ে। চীন সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার কৌশলগত তেল মজুদ ব্যবহার করছে এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লে তাদের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও বড় চাপ তৈরি হয়।

সংকট ইউরোপেও, সুবিধাজনক অবস্থায় আমেরিকা : চলমান যুদ্ধের কারণে নতুন করে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে ইউরোপের দেশগুলো। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে ইউরোপের গ্যাস বাজার আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সংকট দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি করেছে। একদিকে তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে পড়ে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সত্তরের দশকের ভয়াবহ তেল সংকটের স্মৃতিকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তেল উৎপাদক দেশগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়।

বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এটি কৌশলগত শক্তির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত আবারও প্রমাণ করেছে যে, জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত