দশদিন আগে যুদ্ধ শুরুর পর আজ ইরানের ওপর ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ( ১০ মার্চ) পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী তাদের তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব লক্ষ্য হলো, মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালানো ও দুর্বল করা এবং ইরান যেন আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রবণতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের মাইন-স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে আঘাত হানছে। এই অভিযানকে ‘কঠিন ও নিরলস কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি যৌথ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল ‘আমেরিকার পক্ষেই থাকবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলিং’ মেনে নেবে না।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে’ আঘাত করা হবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।
উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান বড় ভুল করেছে। এটি ইরানের চরম হঠকারিতা।
তিনি মনে করেন, ইরান ভুল হিসাব কষেছে। কারণ তাদের এই আচরণের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলো উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। হেগসেথ বলেন, ইরানের নতুন নেতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি মেনে চলা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
