যে মিরপুরকে মনে করা হতো স্পিনারদের স্বর্গ, যেখানে বাম হাতে বল করতে এলেই মিলত ঝুড়ি ঝুড়ি উইকেট, যে ২২ গজের বদনাম ছিল হাঁটুর ওপরে বল না ওঠার; সেখানেই কি না প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই ৫ উইকেট! নাহিদ রানা বুঝিয়ে দিলেন, উইকেটে বাউন্স থাকলে তার সামনে ব্যাটসম্যানরা কতটা অসহায়। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে এই ডানহাতি পেস বোলার জানিয়েছেন, উইকেটের ধরন অনুযায়ী বল করেই পেয়েছেন সাফল্য। সেই সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আর টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পরামর্শে ফিল্ডিং সাজানোর কৌশলটা কাজে দিয়েছে ভালোভাবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ জানান, ‘প্রথমে ফিজ ভাই (মোস্তাফিজ) এবং তাসকিন (আহমেদ) ভাই বোলিং করছিল, সো তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম মাঠের মধ্যে যে উইকেটে কী হচ্ছে না হচ্ছে। তো তারা তখন বলল উইকেটে হিট করলে কিংবা একটা জায়গাতে লাইন লেন্থ মেইনটেইন করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য ডিফিকাল্ট খেলা। সো আমি ওই জিনিসটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’ জানালেন কাজে লেগেছে বিসিএলে খেলাটা, ‘অনেকদিন পর ওডিআই ম্যাচ হচ্ছে তবে আমরা তার আগে বিসিএল খেলেছি তো ওইভাবে আমাদের বিসিএল টুর্নামেন্টটা প্রিপারেশনের জন্য অনেক কাজে দিয়েছে। আমরা ওই জিনিসটা মাঠে এক্সিকিউট করছি। এখানে বিসিএল খেলেছি এবং ওই এক্সপেরিয়েন্সটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি যে এই উইকেটে তো অনেক খেলা হয়েছে তো ওই জিনিসটা জাস্ট কাজে লাগিয়েছি যে কীভাবে কোন লাইন লেন্থে বোলিং করে এই উইকেটে হেল্প পাওয়া যায়।’
কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (টি-২০) এর সময় ধারাভাষ্যকার হিসেবে এসেছিলেন ওয়াকার ইউনুস। নাহিদ রানাকে সে সময় কিছু টিপস দিয়ে গিয়েছিলেন এই সাবেক পেসার যা মনে রেখেছেন ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’, ‘ওনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল উনি জাস্ট একটা জিনিসই বলছিল যে তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং তোমার যে স্ট্রেংথ এই জিনিসটা কখনো হারাতে দিয়ো না এবং তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং লং টাইম খেলার জন্য ফিটনেস ঠিক রাখো। যত ম্যাচ খেলবে তত শিখবে আর উনি জাস্ট একটা কথাই বলছিলেন যে আমি তোমাকে এখন যত কিছুই বলি তোমার মাথায় ঢুকবে না তবে তুমি যদি নিজে এই জিনিসটা নিজে বুঝো এবং নিজে এক্সিকিউট করো এটা তোমার সবসময় মনে থাকবে। ওই জিনিসটা আমার ভালো লাগছে এবং ওই জিনিসটা আমি লং টাইম যখন প্র্যাকটিস করি তখন নিজে ফিল করার চেষ্টা করি যে আমার মধ্যে আরও কী কী স্কিল ডেভেলপ করা উচিত ওই জিনিসগুলো নিয়ে কোচের সঙ্গে কাজ করা হয়।’ ম্যাচের আগের দিন একাডেমি মাঠে পেস বোলিং কোচ শন টেইটের সঙ্গে লম্বা সময় অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে নাহিদ রানাকে। কোচ চেষ্টা করেই যাচ্ছিলেন তার ইয়র্কারগুলোকে নিখুঁত করার। যদিও নাহিদ ম্যাচে বেশি সাফল্য পেয়েছেন শর্ট বলেই। কোচের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন সম্পর্কে বললেন, ‘সত্যি কথা বলতে উনি কোচ হিসেবে আউটস্ট্যান্ডিং কারণ উনি হচ্ছেন একজন কোচ এবং ফ্রেন্ড হিসেবে আমাদের সঙ্গে বিহেভ করেন এবং আমাদের যখন যেটা লাগে তিনি তখন সেই জিনিসটাই আমাদের দেন এবং আমাদের সবসময় বলেন যে তুমি তোমার স্ট্রেংথে থাকো এবং তোমার যা লাগবে তুমি আমাকে বলো আমি জাস্ট তোমাদের গাইড করার জন্য আছি। তোমরা খেলবা তোমরা মাঠে আমি জাস্ট তোমাদের প্ল্যান দেব এই প্ল্যানটা তোমরা এক্সিকিউট করবা এবং তোমরা ম্যাচ উইন করবা। তো অবশ্যই সে সবসময় আমাদের মোটিভেট কথা বলে এবং সবসময় হচ্ছে বেস্ট ফুল সাপোর্ট দেয়।’
এই মাঠেই সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে ৫০ ওভার স্পিন করিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আর বাংলাদেশ তো একাদশে দুজনের বেশি পেসারদের রাখতেই চাইত না। সেখানে ৩ পেসার, পেসারদের প্রথম চেঞ্জে নাহিদকে বোলিংয়ে আনা, সবগুলো সিদ্ধান্তই ছিল ইতিবাচক। পাকিস্তানের আনকোরা টপ অর্ডারকে রীতিমতো ধসিয়ে দিয়েছেন নাহিদ, বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশ সফরে এসে এমন গতির মুখোমুখি হওয়াটা তাদের সিলেবাসের বাইরে! এক দশক আগে এভাবেই মোস্তাফিজের ঝলকে সিরিজ খুইয়েছিল ভারত, নাহিদের গতিতে তাহলে কি পরাস্ত হবে পাকিস্তানও।
